যুদ্ধ ও জ্বালানির দাম বাড়ায় চরম সংকটে মার্কিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো
ইরানের সাথে যুদ্ধ ও জ্বালানির দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছে মার্কিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। ট্যাম্পা-ভিত্তিক জনপ্রিয় মোভিং কোম্পানি ‘কলেজ হাঙ্কস হোলিং জাঙ্ক অ্যান্ড মুভিং’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা নিক ফ্রিডম্যান জানিয়েছেন, একদিকে বাড়তি জ্বালানি খরচ মুনাফা খেয়ে নিচ্ছে, অন্যদিকে গ্রাহকদের ওপর বাড়তি মূল্য চাপিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য নেই তার কোম্পানির। এই ‘ক্যাচ-২২’ পরিস্থিতিতে ছোট ব্যবসাগুলো পড়েছে চরম বিপাকে। খবর সিএনবিসির।
মর্টগেজের উচ্চ সুদ রিয়েল এস্টেট বাজারকে দুর্বল করে দিয়েছে, বাড়তি বীমা প্রিমিয়াম পরিচালন ব্যয় গ্রাস করছে। এর ওপরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে জ্বালানি খরচ আয়ের ৩-৫ শতাংশের জায়গায় ছিল; সেটি এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬-১০ শতাংশে। প্রায় ২০০ লোকেশনে ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলে পরিচালিত তাদের কোম্পানির জন্য এটি অত্যন্ত কঠিন, যার ফলে অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজি অনিশ্চিত অবস্থায় পড়েছে।
ফ্রিডম্যানের কোম্পানি দাম বাড়ানোর ব্যাপারে দ্বিধাগ্রস্ত, কারণ গ্রাহকরা সস্তা ও কম সুরক্ষিত মোভিং সার্ভিসে সরে যেতে পারেন, অথবা বন্ধুদের নিয়ে নিজেরাই পিকআপ ট্রাকে মালামাল সরাতে পারেন—যার ফলে হাঙ্কসের ২ হাজার ট্রাকের বহর অকার্যকর হয়ে পড়ছে। অথচ ট্রাকে জ্বালানি ভরাতেও খরচ ব্যাপক বেড়েছে।
অন্যদিকে বড় কোম্পানিগুলো সম্ভবত অতিরিক্ত ফি যোগ করে ব্যবসা চালিয়ে নিতে পারছে। দ্রুত বর্ধনশীল জ্বালানি খরচ আমেরিকার অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে এবং অনেক বড় প্রতিষ্ঠান তা গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে।
ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ও জেটব্লু উভয়েই এই সপ্তাহে লাগেজের দাম বাড়িয়েছে। অ্যামাজন বিক্রেতাদের ওপর ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ‘জ্বালানি সারচার্জ’ আরোপ করেছে।
অ্যামাজন জানিয়েছে, অন্যান্য বড় ক্যারিয়ারদের চেয়ে এই সারচার্জ ‘অর্থপূর্ণভাবে কম’।
জেটব্লু বলেছে, পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা ‘নিয়মিতভাবে এ খরচ ব্যবস্থাপনার মূল্যায়ন করে’।
ফ্রিডম্যানের ভাষায়, যদি আপনাকে উড়তেই হয়, তাহলে আপনাকে উড়তেই হবে। আকাশপথে ভ্রমণের বেলায় গ্রাহকের খুব বেশি বিকল্প না থাকলেও মোভিং সার্ভিসের বেলায় বিকল্প অনেক। তাই ফ্রিডম্যান মনে করেন, দাম বাড়ানোর ‘বিলাসিতা’ তার কোম্পানির নেই।
জ্বালানি খরচের এই ধাক্কা যত বাড়ছে, ততই ছোট ব্যবসাগুলো টিকে থাকার জন্য কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হচ্ছে—যুদ্ধ শেষ হোক, নাহয় মূল্যস্ফীতির এই চাপ কীভাবে সামাল দেওয়া যায়, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

