Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সংকট

অতিরিক্ত ১৭ বিলিয়ন ডলারের বাজেট প্রস্তাব দক্ষিণ কোরিয়ার

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৩ এএম

অতিরিক্ত ১৭ বিলিয়ন ডলারের বাজেট প্রস্তাব দক্ষিণ কোরিয়ার

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় অতিরিক্ত বাজেট প্রস্তাব করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটি প্রায় ২৬.২ ট্রিলিয়ন ওনের (প্রায় ১৭.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) একটি সম্পূরক বাজেট ঘোষণা করেছে, যার মূল লক্ষ্য বাড়তে থাকা জ্বালানি ব্যয়ের চাপ থেকে সাধারণ মানুষ ও শিল্প খাতকে স্বস্তি দেওয়া।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এই  প্রস্তাবিত বাজেট বলা হয়েছে, মোট বরাদ্দের মধ্যে প্রায় ১০.১ ট্রিলিয়ন ওন সরাসরি উচ্চ তেলের দামের প্রভাব মোকাবিলায় ব্যয় করা হবে। এছাড়া রপ্তানিকারকদের সহায়তা এবং স্থানীয় সরকারগুলোর জন্য অনুদান বৃদ্ধির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার পরিকল্পনা ও বাজেট মন্ত্রী পার্ক হং-গিউন বলেন, মানুষের জীবিকার ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত লাঘব করতে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা জরুরি। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় যে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার শুরু হয়েছে, তা ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর থেকেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর ফলে এশিয়ার দেশগুলো, বিশেষ করে আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলো বড় ধরনের চাপে পড়েছে।

বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি দক্ষিণ কোরিয়া তাদের জ্বালানির প্রায় ৯৪ শতাংশ আমদানি করে, যার প্রায় ৭২ শতাংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। ফলে এই অঞ্চলের অস্থিরতা দেশটির অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

এই প্রস্তাবিত বাজেটের আওতায় প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ওন ব্যয়ে তেলের মূল্যসীমা নির্ধারণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে, যা গত ৯ মার্চ প্রেসিডেন্ট লি-জে-ইয়ং ঘোষণা করেছিলেন। এছাড়া গণপরিবহন ব্যবহারকারীদের জন্য ভর্তুকি বৃদ্ধি এবং নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য ১ লাখ থেকে ৬ লাখ ওন পর্যন্ত ভাউচার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষক, জেলে এবং ক্ষুদ্র পণ্য পরিবহনকারীদের জন্য জ্বালানি ভর্তুকিও এই প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকারগুলোর জন্য প্রায় ৯.৭ ট্রিলিয়ন ওন বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, চিপ রপ্তানি বৃদ্ধি এবং শেয়ারবাজারের উত্থান থেকে অর্জিত রাজস্ব দিয়েই এই বাজেট বাস্তবায়ন করা হবে। ইতোমধ্যে প্রস্তাবটি জাতীয় পরিষদে জমা দেওয়া হয়েছে এবং আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে এটি পাস হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন