সেনা পাঠানো নিয়ে ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরান যুদ্ধ নিয়ে পাকিস্তানে মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদের বৈঠক
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ নিয়ে পাকিস্তানে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বৈঠকে বসেছেন। যুদ্ধ দ্বিতীয় মাসে গড়ানোর প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থল সেনা মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
রবিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে অংশ নেন। পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, বৈঠকে অঞ্চলের পরিবর্তিত পরিস্থিতি, শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নিহত হওয়ার পর থেকেই এই যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর থেকে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের নামও আলোচনায় এসেছে।
এদিকে ইরান হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থল সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে। পেন্টাগন কয়েক সপ্তাহব্যাপী স্থল যুদ্ধের সম্ভাবনা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে এ বিষয়ে দ্বিধা রয়েছে। কেউ কেউ সীমিত অভিযানের পক্ষে মত দিলেও দীর্ঘমেয়াদি স্থল যুদ্ধের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন।
অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা ইরানে প্রবেশ করলে তাদের কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
এদিকে ইরানের হামলায় বাহরাইনের একটি বড় অ্যালুমিনিয়াম কারখানাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এর ফলে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে অ্যালুমিনিয়ামের ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং ধাতুটির দামও বেড়ে গেছে। অ্যালুমিনিয়াম ইলেকট্রনিকস, পরিবহন, নির্মাণ ও সৌর প্যানেলসহ বিভিন্ন শিল্পে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

