ওষুধ গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি নতুন ওষুধ বিশ্ববাজারে আনতে হংকংভিত্তিক একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রায় ২ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় চুক্তি করেছে।
প্রতিষ্ঠান দুটির যৌথ ঘোষণায় জানানো হয়েছে, এই চুক্তির আওতায় হংকংয়ের প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিকভাবে ১১৫ মিলিয়ন ডলার পাবে। বাকি অর্থ বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক অনুমোদন, গবেষণা অগ্রগতি ও বাণিজ্যিক সাফল্যের ওপর নির্ভর করে ধাপে ধাপে প্রদান করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ওষুধ বিক্রি থেকে রয়্যালটিও পাবে প্রতিষ্ঠানটি।
হংকংভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইতোমধ্যে অন্তত ২৮টি ওষুধ তৈরি করেছে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক ওষুধ বর্তমানে ক্লিনিক্যাল বা মানবদেহে পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ফলে ওষুধ গবেষণার সময় অনেক কমে গেছে এবং দ্রুত নতুন অণু বা যৌগ তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে, যা প্রচলিত পদ্ধতিতে অনেক বেশি সময় লাগত।
চুক্তির অংশ হিসেবে হংকংয়ের প্রতিষ্ঠানটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমের একটি বিশেষ গবেষণা নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে। এর মাধ্যমে নতুন নতুন রোগের জন্য সম্ভাবনাময় ওষুধ দ্রুত শনাক্ত ও উন্নয়ন করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠান দুটি এর আগেও ২০২৩ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সফটওয়্যার ব্যবহারের বিষয়ে একটি চুক্তি করেছিল এবং তখন থেকেই তারা যৌথভাবে কাজ করছে।
এদিকে মার্কিন ওষুধ কোম্পানিটি আগামী দশ বছরে চীনে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে। যদিও গত বছর তাদের মোট আয়ের সামান্য অংশ চীন থেকে এসেছে, তবুও ভবিষ্যতে সেখানে গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ওষুধ আবিষ্কার ও উন্নয়ন ভবিষ্যতে চিকিৎসা বিজ্ঞানে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

