Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

যুদ্ধ বন্ধে চলতি সপ্তাহেই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৬, ১২:০৭ এএম

যুদ্ধ বন্ধে চলতি সপ্তাহেই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা

যুদ্ধ বন্ধে চলতি সপ্তাহেই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় বৈঠকের ব্যাপারে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। আর এ অগ্রগতির পেছনে বেশ কাজ করেছে ইরানের প্রতিবেশী ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ট দেশ পাকিস্তান।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস আগেই জানিয়েছিল, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দূতিয়ালি করেছে পাকিস্তান। এখন জানা যাচ্ছে শিগগির যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হবে। আর এর সম্ভাব্য স্থান হবে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ।

ইসরায়েলের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই খবর দিয়েছে অ্যাক্সিওস। ওই কর্মকর্তা বলেন, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ইসলামাবাদে ইরান ও আমেরিকার শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাকিস্তানে হতে যাওয়া ওই সম্মেলনের আলোচনার অংশ হিসেবে একটি সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স আমেরিকার জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল জানত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইসরায়েল বেশ অবাক হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই যোগাযোগগুলো বেশ এগিয়েছে এবং সম্ভবত ১৫টি ইস্যুতে উভয় পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শনিবার ট্রাম্প ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন। এর মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালি না খুলে দিলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দেন। জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি ও পানি শোধনাগার অবকাঠামোর ওপর প্রতিশোধের হুমকি দিলে উত্তেজনা নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়।

হরমুজ সংকট বর্তমানে এমন এক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ট্রাম্পকে যুদ্ধে সমাপ্তি ঘটাতে বাধা দিচ্ছে। পাল্টাপাল্টি হুমকি সংকট আরও তীব্র করেছে এবং তার প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। এতে বৈশ্বিক বাজার অনিশ্চয়তায় পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের ফিউচার—যা সকালেই নিচে নামছিল—ট্রাম্পের পোস্টের পর হঠাৎ বৃদ্ধি পায় এবং তেলের দাম কমে যায়।

স্থানীয় সময় আজ সোমবার সকালে ট্রাম্প নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেন, দুই দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে খুবই ভালো এবং ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এই গভীর, বিস্তারিত এবং গঠনমূলক আলোচনার ধারা সপ্তাহজুড়ে চলবে। চলমান বৈঠক ও আলোচনার সাফল্যের শর্তে আমি যুদ্ধ বিভাগের প্রতি নির্দেশ দিয়েছি—ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখতে।

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে অঞ্চলের কিছু দেশ উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে। উল্টো তেহরান দাবি করেছে, ট্রাম্প উচ্চতর জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা এড়াতে এবং তার সামরিক পরিকল্পনার জন্য সময় কিনতে পিছু হটেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের একটি সূত্র জানিয়েছে, তুরস্ক, মিসর ও পাকিস্তান দুই দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করছে। তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা হোয়াইট হাউসের প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে আলাদা আলাদা বৈঠক করেছেন।

ওই সূত্র বলেছে, মধ্যস্থতা চলছে এবং অগ্রগতি ঘটছে। আলোচনার বিষয় হলো যুদ্ধ শেষ করা এবং সব মুলতবি ইস্যু সমাধান করা। আশা করছি শিগগিরই উত্তর আসবে।

অন্যদিকে, মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি  রবিবার ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পাকিস্তান, তুরস্ক ও কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আবদেলাত্তি জোর দিয়ে বলেছেন, সংঘাতের বিস্তৃত প্রভাব সীমিত রাখা এবং এটি সম্প্রসারিত হওয়া রোধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন