হামলা না হলে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আর আক্রমণ করবে না ইরান
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে এক নাটকীয় মোড় দেখা দিয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলার ঘটনায় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বার্তায় ক্ষমা চেয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে তাঁর এই ক্ষমা প্রার্থনার কয়েক মিনিটের মধ্যেই কাতারের রাজধানী দোহার আকাশে নতুন করে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন,“প্রতিবেশী দেশগুলো, যারা আমাদের হামলার শিকার হয়েছে, তাদের কাছে আমি ক্ষমা চাওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি। আমাদের কোনো প্রতিবেশী দেশ দখলের বিন্দুমাত্র অভিপ্রায় নেই।”
আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এখন থেকে সশস্ত্র বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে— আক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো প্রতিবেশী দেশের ওপর হামলা চালাবে না।
ভাষণে তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা এই পরিস্থিতিকে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে চায়, তারা যেন ‘সাম্রাজ্যবাদের পুতুল’ না হয়। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করা কোনো সম্মানের পথ নয়।
তবে প্রেসিডেন্টের এই শান্তির বার্তার রেশ কাটতে না কাটতেই দোহার আকাশে একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং নিরাপত্তা সতর্ক সংকেত বেজে ওঠে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করার সময়ের শব্দ ছিল।
এদিকে প্রেসিডেন্টের ঘোষণা এবং পরবর্তী বিস্ফোরণের ঘটনায় ইরানের সরকার ও সেনাবাহিনীর মধ্যে কোনো সমন্বয়হীনতা বা যোগাযোগের ঘাটতি ছিল কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারণ, হামলা না করার ঘোষণা দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটে।
এর আগে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাধারণ মানুষের মোবাইল ফোনে পাঠানো এক জরুরি বার্তায় জানায়, পারস্য উপসাগরীয় দেশ কাতারে নিরাপত্তাঝুঁকি ‘উচ্চতর’ পর্যায়ে রয়েছে। তবে কিছু সময় পর আরেকটি বার্তায় জানানো হয়, “নিরাপত্তা হুমকি দূর করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক।”
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই ক্ষমা প্রার্থনা এবং তার কিছুক্ষণ পরই দোহায় বিস্ফোরণের ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও রহস্যময় করে তুলেছে।

