যুদ্ধের তৃতীয় দিন: ৬ মার্কিন সেনা নিহত, ইরানে নিহত দেড় হাজার
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় সামরিক ও বেসামরিক—দুই দিকেই প্রাণহানি ঘটছে। পরিস্থিতি যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে এই সংঘাত দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সোমবার বিকেলে জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এর এক দিন আগে রোববার ৩ জন নিহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। পরে আরেকজন গুরুতর আহত সেনা মারা যান। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রাথমিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি স্থাপনা থেকে আগে নিখোঁজ থাকা দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ‘মেজর কমব্যাট অপারেশনস চলমান রয়েছে।’ নিহতদের নাম ২৪ ঘণ্টা না পেরোনো পর্যন্ত প্রকাশ করা হবে না।
এদিকে ইরানে নিহতের সংখ্যা আরও বেশি। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, শনিবার থেকে অন্তত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হেঙ্গাও বলছে, তৃতীয় দিনে নিহতের সংখ্যা অন্তত ১,৫০০-তে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ২০০ জন বেসামরিক এবং ১,৩০০ জন ইরানি বাহিনীর সদস্য।
হেঙ্গাও জানায়, দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশে মিনাব শহরের একটি মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৫০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশু ছিল। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সানানদাজ শহরে আইআরজিসির গোয়েন্দা সংস্থা মোবাইলে বার্তা দিয়ে সতর্ক করেছে, রাস্তায় বের হওয়াকে ‘শত্রুর সঙ্গে সরাসরি সহযোগিতা’ ধরা হবে।
তেহরানের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘শহর এত বেশি বোমাবর্ষণের মধ্যে যে কখন, কোথায় প্রতিবাদ করব বুঝতে পারছি না।’ আরেক কুর্দি শিক্ষার্থী জানান, সতর্কবার্তার কারণে মানুষ আতঙ্কে আছে। বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে।
ইসরায়েলে ১১ জন নিহতের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ৩১ জন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

