কারা আছেন ইরানের অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদে
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান; সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেইন মোহসেনি এজেই; এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি। [রয়টার্স, এএফপি ও ক্রিয়েটিভ কমন্স]
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটিতে বড় ধরনের রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে। প্রায় চার দশক ক্ষমতায় থাকা এই নেতার মৃত্যুতে রাষ্ট্র পরিচালনায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি হয়ে পড়ে। তাই ইরান দ্রুত তিন সদস্যের একটি অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ গঠনের ঘোষণা দিয়েছে।
ইরানের সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত একটি অস্থায়ী পরিষদ তার দায়িত্ব পালন করবে। এই পরিষদে আছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেইন মোহসেনি এজেই এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি।
খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে তেহরান। ইতিমধ্যে উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে অবস্থিত ইসরায়েলি ও মার্কিন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সরকার পরিবর্তনের ইচ্ছার কথা বলেছেন। শনিবার তিনি ইরানের জনগণকে সরকার পতনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘প্রজন্মের পর প্রজন্মে হয়তো এটাই তোমাদের একমাত্র সুযোগ।’
আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি ২০১৯ সাল থেকে গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য। এই কাউন্সিল আইন ও নীতিমালা ইসলামি নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না তা যাচাই করে, নির্বাচনী প্রার্থীদের অনুমোদন দেয় এবং সংসদের পাস করা আইনে ভেটো দিতে পারে। তিনি এক্সপার্টস অ্যাসেম্বলির উপ-সভাপতিও, যারা সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের তদারকি করে। কুম শহরে তিনি জুমার নামাজের নেতৃত্ব দেন এবং দেশজুড়ে ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থার প্রধান।
৭১ বছর বয়সী মাসুদ পেজেশকিয়ান একজন সংস্কারপন্থি রাজনীতিক ও হৃদরোগ সার্জন। ইরান-ইরাক যুদ্ধে তিনি সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এর আগে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামির আমলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন এবং ২০০৫ সালের পর তাবরিজ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক বিধিনিষেধ শিথিল করা এবং বিদেশে গঠনমূলক সম্পৃক্ততার পক্ষে প্রচার চালান। খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর তিনি বলেন, ‘এই ঐতিহাসিক অপরাধের পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া আমাদের বৈধ অধিকার।’
গোলাম হোসেইন মোহসেনি এজেই ২০২১ সালের জুলাই মাসে খামেনির নিয়োগে প্রধান বিচারপতি হন। ২০০৫ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি গোয়েন্দামন্ত্রী ছিলেন। পরে অ্যাটর্নি জেনারেল ও উপ-প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাকে কট্টরপন্থি হিসেবে দেখা হয়। ১০ বছর আগে এক গণঅভ্যুত্থান দমনে ভূমিকার কারণে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় পড়েন। জানুয়ারিতে রিয়ালের দরপতনের পর যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, সে সময় তিনি ‘দাঙ্গাকারীদের’ প্রতি কোনো নমনীয়তা দেখানো হবে না বলে সতর্ক করেন। তার দাবি, ট্রাম্প ইরানিদের রাস্তায় নামার আহ্বান জানানোর পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রকাশ্যে অস্থিরতাকে সমর্থন করেছে।
এই তিনজন এখন যুদ্ধাহত ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ইরান পরিচালনার ভার কাঁধে নিয়েছেন। সামনে তাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন এবং দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতি বজায় রাখা।

