Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

খামেনি নিহত, নতুন নেতা হচ্ছেন কে?

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬, ১১:৪১ এএম

খামেনি নিহত, নতুন নেতা হচ্ছেন কে?

ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই বিভিন্ন পরিণতি বিশ্লেষণ করছিল। সেই প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল—দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হলে ক্ষমতার ভার কার হাতে যাবে। এই কারণেই সিআইএ হামলার আগেই সম্ভাব্য নেতৃত্ব পরিবর্তনের রূপরেখা মূল্যায়ন করে।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার আগে সিআইএর এক মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, কোনো অভিযানে খামেনি নিহত হলে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী আইআরজিসির কট্টরপন্থি নেতাদের কেউ তার স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন। এ বিষয়ে অবগত দুটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এমন তথ্য জানিয়েছে।

হামলার অন্তত দুই সপ্তাহ আগে থেকে প্রস্তুত করা এসব মূল্যায়নে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের পর ইরানে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে এবং কত মাত্রার সামরিক অভিযান ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটিতে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের সূচনা ঘটাতে সক্ষম হতে পারে, তা সামগ্রিকভাবে পর্যালোচনা করা হয়।

শনিবারের অভিযানের শুরুতেই ওয়াশিংটন স্পষ্ট করে যে, ইরানের শাসনব্যবস্থা বদলানোই তাদের মূল লক্ষ্য। সিআইএর মূল্যায়ন সম্পর্কে জানেন এমন তৃতীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযান-পরবর্তী সম্ভাব্য একাধিক দৃশ্যপটের মধ্যে আইআরজিসির কোনো নেতা ক্ষমতার শীর্ষে বসতে পারেন—এ ধারণাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে শিয়া মুসলিম মোল্লাতন্ত্রভিত্তিক শাসনব্যবস্থার সুরক্ষা নিশ্চিত করা। তবে সিআইএর প্রতিবেদনে ‘সুনির্দিষ্টভাবে এটাই ঘটবে’—এমন কোনো দৃশ্যপটের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রগুলো জানিয়েছে। সিআইএ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আইআরজিসির সম্ভাব্য শীর্ষ নেতাদের নাম উল্লেখ করা হয়নি। সিআইএর মূল্যায়নে নির্দিষ্ট কারও নাম ছিল কিনা, তাও স্পষ্ট নয়। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও খামেনির পর নেতৃত্বে কাকে দেখা যেতে পারে, সে বিষয়ে কিছু বলেননি।

শনিবার সকালে ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প তেহরানকে ‘সন্ত্রাসী শাসকগোষ্ঠী’ আখ্যা দিয়ে ইরানি জনগণকে সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আহ্বান জানান। তার দাবি, মার্কিন সামরিক অভিযান গণঅভ্যুত্থানের ক্ষেত্র তৈরি করবে।

ডিসেম্বরে রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভের পর ইরানে হামলা হবে কিনা তা নিয়ে কয়েক সপ্তাহ দোলাচলে থাকার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে আঘাত হানে। এ সময় মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তির চেষ্টাও চালান। কিন্তু তেহরান অভিযোগ করছে, হামলার প্রস্তুতি আড়াল করতে গত বছরের মতোই যুক্তরাষ্ট্র ‘আলোচনার নাটক’ করেছে।

গত সপ্তাহে এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ‘গ্যাং অব এইট’ নামে পরিচিত কংগ্রেসের শীর্ষ আইনপ্রণেতাদের ইরানে হামলার সম্ভাবনা ‘প্রকট’ বলে ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, অভিযান সম্ভাব্য হলেও পরমাণু আলোচনা সফল হলে ট্রাম্প মত বদলাতে পারেন। জেনিভায় সর্বশেষ বৈঠকে চুক্তি না হওয়ায় শুক্রবার রাতে রুবিও ওই আইনপ্রণেতাদের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হামলার সম্ভাবনার কথা জানান, যদিও বলেন, ‘ট্রাম্প এখনও মত বদলাতে পারেন’—এ তথ্যও অবগত দুটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। 


Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন