ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ করে ইরানে হামলা চালিয়েছে
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন নতুন করে বিস্ফোরিত হয়েছে। ইসরায়েল হঠাৎ করে ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রও অংশ নিয়েছে। কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে যখন আশার কথা শোনা যাচ্ছিল, ঠিক তখনই এই সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে সরাসরি সংঘাতের পথে ঠেলে দিল।
তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দেশের আরও কয়েকটি এলাকাতেও বিস্ফোরণের খবর আসে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কেরমানশাহ, লোরেস্তান, তাবরিজ, ইসফাহান ও কারাজ শহরেও বিস্ফোরণ হয়েছে। তবে তা সঙ্গে সঙ্গে স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল ফোন যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। এই মুহূর্তে কল করা যাচ্ছে না। শিগগিরই ইন্টারনেটও বিচ্ছিন্ন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ফার্স বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট ও জোমহুরি এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। পশ্চিম তেহরানে অবস্থানরত আল জাজিরার প্রতিবেদক দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। এএফপির ছবিতে তেহরানের আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে।
ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার মুখপাত্র মাজিদ আখাভান মেহর নিউজ এজেন্সিকে বলেছেন, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পুরো দেশের আকাশসীমা বন্ধ রাখা হয়েছে।’
অন্যদিকে ইরাকে ইরানের ওপর হামলার পর দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় জাতীয় আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে বলে জানিয়েছে ইরাক নিউজ এজেন্সি আইএনএ।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা আল জাজিরাকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার লক্ষ্য ইরানের নিরাপত্তা কাঠামো ভেঙে দেওয়া। আরেক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই হামলা ছিল যৌথ সামরিক অভিযান।
ওয়াশিংটন থেকে অ্যালান ফিশার জানিয়েছেন, কয়েক ঘণ্টা আগেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনা চলছিল। তার সঙ্গে কথা বলা এক ব্যক্তি বলেছেন, যদি সামরিক পদক্ষেপ হয়, তবে তা হবে ‘ওয়ান অ্যান্ড ডান’ ধরনের। অর্থাৎ একবার আঘাত করে ইরানকে বার্তা দেওয়া—‘এখন আমরা এটি করছি, তবে চুক্তিতে না এলে সামনে আরও বড় কিছু হতে পারে।’
জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতাকারী মনে করেছিলেন, চুক্তির দিকে অগ্রগতি হচ্ছে, যদিও সময় লাগতে পারে। তবে শুক্রবার টেক্সাসে যাওয়ার পথে ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ইরানিদের ওপর অসন্তুষ্ট, তবে তিনি আশা করেন একটি চুক্তি হবে।

