Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

ডুরান্ড লাইনে তীব্র লড়াই, ৩৩১ তালেবান নিহতের দাবি ইসলামাবাদের

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:১০ পিএম

ডুরান্ড লাইনে তীব্র লড়াই, ৩৩১ তালেবান নিহতের দাবি ইসলামাবাদের

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান সংঘাত নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে পুরো অঞ্চলে। সীমান্তজুড়ে গোলাগুলি, বিমান হামলা আর পাল্টা হামলায় পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সংঘাত নিয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে। তারা অবিলম্বে সংলাপ শুরুর আহ্বান জানিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কাল্লাসও ‘তাৎক্ষণিক উত্তেজনা প্রশমন’ এবং কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে শত্রুতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, এই লড়াই বৃহত্তর অঞ্চলে অস্থিরতা ছড়িয়ে দিতে পারে।

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল ও সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কের কথা জানিয়েছেন। পাকিস্তান বিমানবাহিনীর হামলার পর বহু মানুষ আহত হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। রাতভর বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দে মানুষ ঘর ছেড়ে আশ্রয় খুঁজতে বাধ্য হয়েছে।

পাকিস্তান বলছে, তারা তালেবান যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ শুক্রবার বলেন, সীমান্ত পেরিয়ে হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের ‘ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে’। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, দুই দেশ এখন ‘উন্মুক্ত যুদ্ধে’ জড়িয়ে পড়েছে।

এর জবাবে তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, আফগানিস্তান ডুরান্ড লাইনের বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘বৃহৎ আকারের আক্রমণাত্মক অভিযান’ চালাচ্ছে। তবে একই সঙ্গে তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তার দেশ উত্তেজনা নিরসনে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।

কিন্তু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী দপ্তরের বৈদেশিক গণমাধ্যমবিষয়ক মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। পাকিস্তান টিভিকে তিনি বলেন, ‘কোনো আলোচনা হবে না। কোনো সংলাপ হবে না। কোনো দরকষাকষি হবে না। আফগানিস্তান থেকে সন্ত্রাসবাদ বন্ধ হতেই হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি জানি পয়েন্ট এ-তে একজন সন্ত্রাসী আছে এবং সেখানে তাকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, তাহলে আমরা সেই পয়েন্টে আঘাত হানার মতো অস্ত্র খুঁজে নেব এবং হুমকি নির্মূল করব।’

জাইদি দাবি করেন, শুধু আফগানিস্তান নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও দায়িত্ব আছে। তাদের নিশ্চিত করতে হবে, আফগান ভূখণ্ড যেন সীমান্তপারের হামলায় ব্যবহার না হয়।

এদিকে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেছেন, এখন পর্যন্ত ৩৩১ জন আফগান তালেবান যোদ্ধা নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানি বাহিনী ১০৪টি তালেবান চৌকি ও ১৬৩টি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করেছে। আরও ২২টি চৌকি দখল করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

পাকিস্তান টিভি জানিয়েছে, আফগান তালেবানের একাধিক অবস্থানে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে কিলা সাইফুল্লাহ সেক্টরের ‘আলা জিরগা থানার’ সামরিক পোস্ট, একই সেক্টরের ‘রহিম থানা’ পোস্ট, আজম ওয়ারসাক সেক্টরের ‘শাগা’ পোস্ট এবং খাইবার, ওমারি ও নোশকি সেক্টরের বিভিন্ন পোস্ট রয়েছে।

অন্যদিকে আফগান গণমাধ্যম টোলো নিউজ জানিয়েছে, তালেবান বাহিনী মিরানশাহ ও স্পিনওয়ামে পাকিস্তানি সামরিক শিবিরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে সমান্তরালে। সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। রিয়াদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে উত্তেজনা প্রশমনের উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন। এর আগে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গেও কথা বলেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে। জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির সব কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাউন্সিলও অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে পাকিস্তানে অবস্থানরত মার্কিন মিশন ‘উচ্চতর উত্তেজনা’র কারণে দেশটিতে থাকা মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বলেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থাপনা, সামরিক স্থাপনা এবং বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্রের কাছে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আফগানিস্তানে থাকা মার্কিন নাগরিকদের ক্ষেত্রেও আগের সতর্কতা বহাল আছে, যেখানে দেশটিকে ‘ভ্রমণ না করার’ সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রাখা হয়েছে।

এই মুহূর্তে দুই দেশই নিজেদের অবস্থানে অনড়। একদিকে পাকিস্তান বলছে, সন্ত্রাসবাদ বন্ধ না হলে অভিযান চলবে। অন্যদিকে আফগান তালেবান বলছে, তারা সামরিক জবাব দেবে, তবে আলোচনাও চায়।

সূত্র: আল জাজিরা

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন