Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে দেওয়া রেকর্ড ভাষণে যা বললেন ট্রাম্প

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৫২ পিএম

কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে দেওয়া রেকর্ড ভাষণে যা বললেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে দেওয়া এবারের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে নতুন রেকর্ড গড়েছেন। প্রায় ১ ঘণ্টা ৪৮ মিনিটের এই ভাষণ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দীর্ঘতম।

ভাষণের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প বারবার অর্থনীতির কথা বলেছেন। তার দাবি, হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার ১৩ মাসের মধ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সংকটে থাকা দেশ’ থেকে পৃথিবীর ‘সবচেয়ে উত্তপ্ত’ বা সবচেয়ে এগিয়ে থাকা দেশে পরিণত করেছেন। তার ভাষায়, অর্থনীতি এখন ‘আগের চেয়ে অনেক বেশি জোরে ছুটছে’।

তিনি বলেন, আগের প্রশাসনের কাছ থেকে তিনি ‘ভয়াবহ অর্থনীতি’ পেয়েছিলেন। কিন্তু এখন তা ‘গর্জে উঠেছে’। মর্টগেজ সুদের হার চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে এসেছে এবং দ্রুত কমছে বলেও দাবি করেন তিনি। গত সপ্তাহে ৩০ বছরের গৃহঋণের গড় সুদের হার ৬ দশমিক ০১ শতাংশে নেমেছে, যা প্রায় চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

তবে সুদের হার কমার পেছনে সরকারি বন্ডের ফলন কমে যাওয়া এবং বাণিজ্যযুদ্ধ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগকেও কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প সরকার-সমর্থিত আবাসন সংস্থাগুলোকে ২০০ বিলিয়ন ডলারের মর্টগেজ বন্ড কেনার নির্দেশ দিয়েছেন।

মূল্যস্ফীতির প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তার নীতির ফলে উচ্চ মূল্য দ্রুত কমছে। গরুর মাংসের দাম ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে শুরু করেছে’ বলেও দাবি করেন তিনি। সরকারি হিসাবে ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে গরুর মাংসের দাম ০ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে, যদিও গত ১২ মাসে তা ১৫ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে কফির দাম ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ এবং হিমায়িত মাছ ও সামুদ্রিক খাদ্যের দাম ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। তবে ডিমের দাম গত এক বছরে ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে।

ট্রাম্প জানান, গত ১২ মাসে তিনি ১৮ ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ নিশ্চিত করেছেন। যদিও হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত অঙ্ক ৯ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনাও রয়েছে।

অভিবাসন ইস্যুতে ট্রাম্প বলেন, তার প্রশাসন অবৈধ অভিবাসন কমাতে বড় অগ্রগতি করেছে এবং দক্ষিণ সীমান্ত এখন নিরাপদ। তিনি অপরাধে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের সরানোর নীতির পক্ষে কথা বলেন। তবে মিনেসোটায় পরিচালিত অভিযানের কথা উল্লেখ করেননি।

পররাষ্ট্রনীতিতে তিনি বলেন, তার নীতি ‘শক্তির মাধ্যমে শান্তি’। গত মাসে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে কারাকাসে গ্রেপ্তারের অভিযানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এতে এক ‘আইনহীন স্বৈরশাসকের’ শাসনের অবসান হয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকার জলসীমায় মাদক পাচারবিরোধী অভিযান এবং মেক্সিকোয় কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী এল মেনচোর মৃত্যুর ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন।

ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্পের সুর ছিল কঠোর, তবে কূটনৈতিক। তিনি বলেন, ‘এই সমস্যা আমি কূটনৈতিকভাবে সমাধান করতে চাই।’ তবে স্পষ্ট করে দেন, তিনি কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেবেন না।

তিনি দাবি করেন, তার নেতৃত্বে আটটি যুদ্ধের অবসান হয়েছে। এর মধ্যে ইসরায়েল-হামাস সংঘাত এবং ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনার কথাও রয়েছে। তবে কিছু সংঘাত অল্প সময়ের ছিল এবং একটি ক্ষেত্রে, যেমন মিশর-ইথিওপিয়া বিরোধে, সরাসরি যুদ্ধ হয়নি।

ভাষণের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি নিয়ে কথা বলেন ট্রাম্প। টেক্সাসের সীমান্ত শহর থেকে মিশিগানের গ্রাম, ফ্লোরিডার সমুদ্রতট থেকে ডাকোটার মাঠ—সব জায়গার মানুষের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমেরিকার সোনালি যুগ এখন শুরু হয়েছে।’

ভাষণ জুড়ে তিনি রিপাবলিকানদের সামরিক বিনিয়োগের প্রশংসা করেন এবং ন্যাটো সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও বলেন। তার বক্তব্য ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী এখন পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী।

তবে ডেমোক্র্যাটদের প্রতিক্রিয়া ছিল তীব্র। ভার্জিনিয়ার গভর্নর অ্যাবিগেইল স্প্যানবার্গার তার জবাবে বলেন, প্রেসিডেন্ট সৎ ছিলেন না। তার অভিযোগ, ট্রাম্প ‘মিথ্যা বলেছেন, অন্যকে দোষারোপ করেছেন এবং দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা করেছেন।’ তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট দেশের জরুরি সমস্যার ‘কোনো বাস্তব সমাধান দেননি’।

ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস গত এক বছরকে ‘সম্পূর্ণ ব্যর্থতা’ বলেন। সিনেট সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার মন্তব্য করেন, এমন বাস্তবতাবিচ্ছিন্ন ভাষণ আমেরিকানরা আগে দেখেনি।

ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর অ্যালেক্স প্যাডিলা স্প্যানিশ ভাষায় প্রতিক্রিয়া দিয়ে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিকে ‘অবৈধ’ বলেন। টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি আল গ্রিন ‘Black people aren’t apes’ লেখা প্ল্যাকার্ড দেখিয়ে প্রতিবাদ জানান এবং বলেন, তিনি ‘এই মাত্রার ঘৃণা’ মেনে নেবেন না।

নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই ভাষণকে অনেকেই রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। জনমত জরিপ বলছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের নীতিতে অনেক আমেরিকান সন্তুষ্ট নন। তবু ভাষণে তিনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তার বার্তা ছিল স্পষ্ট—তার মতে, আমেরিকা আবার জিতছে।

সূত্র: বিবিসি

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন