Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগান সীমান্তে উত্তেজনা তীব্র

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম

পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগান সীমান্তে উত্তেজনা তীব্র

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালিয়েছে। তারা বলছে, সাম্প্রতিক একের পর এক হামলার পেছনে যে সশস্ত্র গোষ্ঠী আছে, তাদের ‘ক্যাম্প ও আস্তানায়’ আঘাত করা হয়েছে। এসব হামলার মধ্যে ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে ভয়াবহ আত্মঘাতী বিস্ফোরণও আছে।

আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রবিবারের এই হামলার নিন্দা করেছে। তাদের দাবি, নানগারহার ও পাকতিকা সীমান্ত প্রদেশে একটি ধর্মীয় স্কুল ও আবাসিক বাড়িতে বোমা পড়েছে। এতে নারী ও শিশুসহ ডজনখানেক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, শুধু নানগারহারেই অন্তত ১৭ জন মারা গেছে।

গত বছরের অক্টোবর মাসে সীমান্তে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছিল। এতে সেনা, বেসামরিক মানুষ ও সন্দেহভাজন যোদ্ধাসহ ডজনখানেক প্রাণ যায়। সেই ঘটনার পর যে নাজুক যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, এই হামলা তা হুমকির মুখে ফেলেছে।

পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, সেনাবাহিনী গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সাতটি ক্যাম্প ও আস্তানায় ‘নির্বাচিত অভিযান’ চালিয়েছে। এসব আস্তানা পাকিস্তান তালেবান, অর্থাৎ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান এবং তাদের সহযোগীদের। সীমান্ত এলাকায় ইসলামিক স্টেটের একটি শাখাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইসলামাবাদ, বাজাউর ও বান্নুতে সাম্প্রতিক হামলাগুলো আফগানিস্তানভিত্তিক নেতৃত্বের নির্দেশে হয়েছে। তারা বলেছে, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে হামলা ঠেকাতে কাবুলকে বারবার অনুরোধ করা হয়েছে, কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

তাদের ভাষ্য, পাকিস্তান সব সময় আঞ্চলিক শান্তি চায়। তবে নাগরিকদের নিরাপত্তাই তাদের প্রথম অগ্রাধিকার।

এই বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে বান্নু জেলায় একটি নিরাপত্তা বহরে আত্মঘাতী হামলা হয়। এতে এক লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ দুই সেনা নিহত হন। সোমবার বাজাউরে বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি দিয়ে নিরাপত্তা চৌকিতে হামলা হয়। এতে ১১ সেনা ও এক শিশু মারা যায়। পরে কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলাকারী আফগান নাগরিক।

৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদের তারলাই কালান এলাকায় খদিজা তুল কুবরা মসজিদে জোহরের নামাজের সময় বিস্ফোরণ হয়। এতে অন্তত ৩১ জন নিহত ও ১৭০ জন আহত হন। ইসলামিক স্টেট দায় স্বীকার করে।

পাকিস্তান বলেছে, এই হামলার পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ আফগানিস্তানে হয়েছে।

রবিবারের বিবৃতিতে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানায়, ২০২০ সালে দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছিল, তা মানতে তালেবান সরকারকে চাপ দিতে। তাদের মতে, এটি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তির জন্য জরুরি।

আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও ভালো প্রতিবেশীসুলভ আচরণের লঙ্ঘন। তারা সতর্ক করেছে, বেসামরিক ও ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার জবাব তারা দেবে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে সহিংসতা বেড়েছে। ইসলামাবাদ এর জন্য টিটিপি ও নিষিদ্ধ বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে। টিটিপি ও তালেবান সরকার দুপক্ষই আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

অক্টোবরের সংঘর্ষের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক টানটান। কাতারের মধ্যস্থতায় ১৯ অক্টোবর যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তা মোটামুটি টিকে আছে। তবে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে পরবর্তী আলোচনা কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি আনতে পারেনি।

সব মিলিয়ে বোঝা যায়, পারস্পরিক অবিশ্বাস ও পাল্টা অভিযোগই এখন এই সংকটকে গভীর করছে। শান্তি টিকিয়ে রাখতে হলে কথার বদলে কার্যকর আস্থা গড়া জরুরি।


Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন