Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

ইরানে ফের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩২ এএম

ইরানে ফের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ

ইরানের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ করেছে। গত মাসে প্রাণঘাতী দমন অভিযানের পর এটাই সবচেয়ে বড় সমাবেশ।

শনিবার তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে শত শত শিক্ষার্থী মিছিল করেছে। বিবিসি যাচাই করা ভিডিওতে দেখা যায়, নতুন সেমিস্টারের শুরুতে তারা শান্তিপূর্ণভাবে ক্যাম্পাসে হাঁটছে। অনেকের হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা।

তারা স্লোগান দেয়, ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক’। এটি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে ইঙ্গিত করে। সরকারবিরোধী আরও নানা স্লোগান শোনা যায়।

কাছেই সরকারপন্থি আরেকটি সমাবেশ ছিল। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়।

তেহরানের শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। আমির কবির ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতেও সরকারবিরোধী স্লোগান শোনা যায়।

উত্তর-পূর্বের শহর মাশহাদে শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেয়, ‘স্বাধীনতা, স্বাধীনতা’ এবং ‘শিক্ষার্থীরা, তোমাদের অধিকার নিয়ে আওয়াজ তোলো’।

এই বিক্ষোভ জানুয়ারির গণআন্দোলনে নিহত হাজারো মানুষের স্মরণে। মানবাধিকারভিত্তিক সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সে সময় কমপক্ষে ৬,১৫৯ জন নিহত হয়। তাদের মধ্যে ৫,৮০৪ জন ছিল বিক্ষোভকারী, ৯২ জন শিশু এবং ২১৪ জন সরকার-সম্পৃক্ত ব্যক্তি। তারা আরও ১৭,০০০ মৃত্যুর খবর তদন্ত করছে।

ইরান সরকার বলেছে, ৩,১০০ জনের বেশি নিহত হয়েছে, তবে তাদের দাবি বেশিরভাগই নিরাপত্তাকর্মী বা দাঙ্গাকারীদের হামলায় নিহত সাধারণ মানুষ।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সীমিত সামরিক হামলার কথা বিবেচনা করছেন বলে জানান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্ররা সন্দেহ করছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছে। ইরান তা অস্বীকার করে।

মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার আলোচনায় অগ্রগতির কথা বলা হয়। তবুও ট্রাম্প বলেন, আগামী প্রায় ১০ দিনের মধ্যে বোঝা যাবে চুক্তি হবে, নাকি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নির্বাসিত বিরোধী অংশ ট্রাম্পকে হামলার আহ্বান জানাচ্ছে। তারা দ্রুত কঠোরপন্থি সরকারের পতন চায়। অন্য বিরোধীরা বিদেশি হস্তক্ষেপের বিপক্ষে।

দুই পক্ষই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্ন বয়ান ছড়াচ্ছে। তারা প্রমাণ করতে চাইছে, ইরানের মানুষ আসলে কী চায়।

এই পরিস্থিতি স্পষ্ট করে, ইরানে রাজনীতি এখন ভেতর ও বাইরের চাপের মধ্যে আটকে আছে। ছাত্রদের কণ্ঠ তাই শুধু ক্যাম্পাসে নয়, বৈশ্বিক অঙ্গনেও প্রতিধ্বনি তুলছে।

সূত্র: বিবিসি

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন