Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত অঞ্চল দখল করলে আপত্তি নেই: মার্কিন দূত

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:১৫ পিএম

ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত অঞ্চল দখল করলে আপত্তি নেই: মার্কিন দূত

দণ্ডিত গুপ্তচর জনাথন পোলার্ডের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি মাইক হাকাবি। তিনি বলেন, এ বৈঠক নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই। [ফাইল ছবি: রোনেন জভুলুন/রয়টার্স]

ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বলেছেন, ইসরায়েল যদি মধ্যপ্রাচ্যের বেশির ভাগ এলাকা দখল করে নেয়, তাতে তার আপত্তি থাকবে না। তার দাবি, এ ভূমির ওপর ইহুদি জনগণের অধিকার রয়েছে।

শুক্রবার প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে রক্ষণশীল ভাষ্যকার টাকার কার্লসনের মুখোমুখি হন হাকাবি। সেখানে ইসরায়েলের ভৌগোলিক সীমা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। হাকাবি বলেন, এ সীমার শিকড় বাইবেলে প্রোথিত।

কার্লসন বলেন, বাইবেলের একটি আয়াতে আব্রাহামের বংশধরদের জন্য ইউফ্রেটিস নদী থেকে নীল নদ পর্যন্ত ভূমির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ইরাকের ইউফ্রেটিস থেকে মিসরের নীল পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল।

এই বিস্তৃত ভূখণ্ডের মধ্যে বর্তমান লেবানন, সিরিয়া, জর্ডান এবং সৌদি আরবের কিছু অংশ পড়ে।

জবাবে হাকাবি বলেন, ‘তারা যদি সবটাই নিয়ে নেয়, তাতেও সমস্যা নেই।’ গত বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে এ পদে নিয়োগ দেন।

কার্লসন বিস্ময় প্রকাশ করে জানতে চান, তিনি কি সত্যিই চান ইসরায়েল পুরো অঞ্চল দখল করুক? হাকাবি বলেন, ‘তারা দখল করতে চায় না। তারা দখল করার কথা বলছেও না।’

পরবর্তীতে হাকাবি তার বক্তব্য কিছুটা নরম করেন। তিনি বলেন, সেটি ‘কিছুটা অতিরঞ্জিত মন্তব্য’ ছিল। তবুও ধর্মীয় ব্যাখ্যার ভিত্তিতে ইসরায়েলের সম্প্রসারণের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি।

তিনি বলেন, ‘যদি এসব জায়গা থেকে তারা আক্রান্ত হয়, আর যুদ্ধে জিতে সে ভূমি নেয়, তাহলে সেটি ভিন্ন আলোচনা।’

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ বিষয়ে আল জাজিরার প্রশ্নের জবাব দেয়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হাকাবির মতের সঙ্গে একমত কি না, সেটিও স্পষ্ট হয়নি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে আন্তর্জাতিক আইনে ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং বলপ্রয়োগে ভূমি দখলের নিষেধাজ্ঞা মৌলিক নীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত রায় দেয়, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখল অবৈধ এবং তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

তবে ইসরায়েলের আইনে দেশের সীমানা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত নয়। ১৯৮১ সালে তারা সিরিয়ার গোলান মালভূমি দখল করে সংযুক্ত করে। এ দাবিকে কেবল যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দিয়েছে।

২০২৩ সালে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধের পর ইসরায়েল লেবাননের ভেতরে পাঁচটি স্থানে সামরিক চৌকি স্থাপন করে।

ইসরায়েলের কিছু রাজনীতিক, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ, প্রকাশ্যে ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’-এর ধারণা সমর্থন করেছেন। ২০২৩ সালে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ এমন এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, যেখানে প্রদর্শিত মানচিত্রে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড এবং লেবানন, সিরিয়া ও জর্ডানের অংশ ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে দেখানো হয়। এতে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়।

কার্লসনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে হাকাবি বলেন, ইসরায়েলের অস্তিত্বের অধিকার আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত। তবে একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, এসব প্রতিষ্ঠান ন্যায্যভাবে আইন প্রয়োগ করছে না। তিনি কৃতজ্ঞতা জানান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওকে, যারা এসব সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন।

রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় হাকাবি সমালোচনার মুখেও পড়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে নিহত বা বন্দি মার্কিন নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় তিনি জোরালো ভূমিকা নেননি।

গত বছর তিনি দণ্ডিত গুপ্তচর জনাথন পোলার্ডের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিতর্কের জন্ম দেন। পোলার্ড যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সাবেক বেসামরিক বিশ্লেষক ছিলেন। তিনি মার্কিন গোপন তথ্য ইসরায়েল সরকারকে দেন, যা পরে সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছেও পৌঁছায়। শীতল যুদ্ধের উত্তেজনাকালে এ ঘটনা ঘটে। তিনি ৩০ বছর কারাভোগ করেন এবং ২০২০ সালে মুক্তির পর ইসরায়েলে যান। নিজের অপরাধের জন্য তিনি কখনো অনুশোচনা প্রকাশ করেননি। ২০২১ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংস্থায় কর্মরত ইহুদিদের ইসরায়েলের জন্য গুপ্তচরবৃত্তির আহ্বান জানান।

হাকাবি বলেন, তিনি পোলার্ডের মতের সঙ্গে একমত নন। তবে তিনি অস্বীকার করেন যে তাকে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তার দাবি, জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাসে নির্ধারিত সময় নিয়ে একটি বৈঠক হয়েছিল।

সাংবাদিক জানতে চান, যে কেউ কি দূতাবাসে গিয়ে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করতে পারে? হাকাবি স্বীকার করেন, এমন বৈঠকের জন্য আগাম অনুমোদিত সময় নিতে হয়।

তিনি বলেন, ‘তার অনুরোধে সে মার্কিন দূতাবাসে এসে বৈঠক করেছে। আমি করেছি, আর সত্যি বলতে এতে আমার অনুশোচনা নেই।’

সূত্র: আল জাজিরা


Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন