ঐতিহাসিক জয়ে জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি, বাজারে রেকর্ড উত্থান
জাপানের রাজনীতিতে ইতিহাস গড়লেন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। রোববারের নির্বাচনে তার দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) পেয়েছে ৪৬৫টি আসনের মধ্যে ৩১৬টি।
জাপানের বর্তমান সংসদ কাঠামো অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালের পর এবারই প্রথম এককভাবে কোনো দল দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করল।
এলডিপির জোটসঙ্গী ‘জাপান ইনোভেশন পার্টি’ পেয়েছে ৩৬টি আসন। ফলে দুই দলের মোট আসন দাঁড়িয়েছে ৩৫২টিতে।
সোমবার সকালে এই জয়ের প্রভাব পড়ে টোকিও শেয়ারবাজারে। ‘নিক্কেই ২২৫ সূচক’ ৫ শতাংশেরও বেশি বেড়ে অতিক্রম করে ৫৭ হাজারের মাইলফলক। এটা এক ঐতিহাসিক উচ্চতা।
এই জয়ের ফলে এখন তাকাইচি তার ব্যবসাবান্ধব নীতিগুলো সহজেই বাস্তবায়ন করতে পারবেন, কারণ তাকে আর বিরোধীদের সঙ্গে বিশেষভাবে সমঝোতা করতে হবে না।
রোববার রাতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘দায়িত্বশীল তবে সাহসী’ অর্থনৈতিক নীতি তিনি চালিয়ে যাবেন। চার মাস আগে গঠিত মন্ত্রিসভায় কোনো পরিবর্তন আনা হবে না বলেও জানান তিনি।
তাকাইচি জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। গত অক্টোবরে তিনি দায়িত্ব নেন। কয়েক মাসের মধ্যে দ্রুত নির্বাচন ডেকে তিনি বাজি খেলেন—এবং জিতে গেলেন।
তার এই সফলতা স্পষ্টভাবে আলাদা হয়ে উঠেছে আগের দুই প্রধানমন্ত্রীর তুলনায়, যারা সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছিলেন, দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত ছিলেন এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার খরচ সামলাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, তাকাইচির নীতিমালা জাপানের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে পারে। বিনিয়োগ বিশ্লেষক ইউকা মারোসেক বলেন, ‘উদ্দীপনা প্যাকেজ, কর সংশোধন আর নিয়ম শিথিলতার মতো পদক্ষেপগুলো চলমান বাজার ঊর্ধ্বগতির জন্য আরও জ্বালানি সরবরাহ করবে।’
জাপানে ঐতিহাসিকভাবে মূল্যস্ফীতি খুবই কম। ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাজারে দাম বাড়ার বিষয়টি মানুষকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
ভোটকেন্দ্রে অনেকেই জানিয়েছেন, নিত্যপণ্যের দাম ও বাড়িভাড়ার চাপ নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।
অর্থনীতি আরও চাপে রয়েছে দেশের বার্ধক্যজনিত জনসংখ্যার কারণে। এতে শ্রমশক্তি কমছে এবং সামাজিক সেবার ব্যয় বেড়েই চলেছে।
তাকাইচি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি কর কমাবেন এবং সরকারি ব্যয় বাড়িয়ে অর্থনীতিকে গতিশীল করবেন। তবে এই অর্থ আসবে কোথা থেকে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। কারণ জাপানে সরকারের ঋণ ইতিমধ্যেই অনেক বেশি।
তবে তাকাইচি আত্মবিশ্বাসী। তার কথায়, ‘আমাদের কাঁধে অনেক বড় দায়িত্ব। আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণের ভোট পেয়েছি, তা ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করাই এখন প্রধান কাজ।’
তার পূর্বসূরি শিগেরু ইশিবার সময় এলডিপি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছিল। তাকাইচি তার নিজস্ব জনপ্রিয়তা দিয়েই দলকে আবার চাঙ্গা করেছেন।
এলডিপির রক্ষণশীল ভোটারদের মধ্যে তিনি সমর্থন গড়েছেন সাংবিধানিক সংস্কারের মতো পুরনো আলোচনাকে আবার সামনে এনে এবং ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়ে।
তবে তরুণদের সঙ্গেও তিনি অন্যভাবে সংযোগ তৈরি করেছেন—তার ব্যবহৃত গোলাপি কলম ও ব্যাগ এখন তরুণদের মধ্যে অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকাইচিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি লিখেছেন, ‘তাকে সমর্থন দিতে পারা ছিল আমার জন্য এক গর্বের ব্যাপার।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘জাপানের অসাধারণ মানুষ, যারা এত উৎসাহ নিয়ে ভোট দিয়েছেন, তারা সবসময় আমার সমর্থন পাবেন।’
গত বছর তাকাইচি যখন মাত্র এক সপ্তাহ হলো প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, তখনই ট্রাম্প জাপান সফরে যান। তাকাইচির কূটনৈতিক সূচনা ছিল সেটাই। হাজারো মার্কিন সেনার সামনে ট্রাম্প তাকে প্রশংসায় ভাসান।
তাকাইচি আগামী মার্চে ওয়াশিংটন সফর করবেন। সেখানেই ট্রাম্পের সঙ্গে তার দ্বিতীয় দফার বৈঠক হওয়ার কথা।

