হংকংয়ের ‘বিবেক’ জিমি লাইকে জাতীয় নিরাপত্তা মামলায় ২০ বছরের কারাদণ্ড
হংকংয়ের অন্যতম প্রভাবশালী গণমাধ্যম মালিক জিমি লাইকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছিল ‘বিদেশি শক্তির সঙ্গে ষড়যন্ত্র’ এবং ‘বিদ্বেষমূলক প্রকাশনা’ প্রচারের অভিযোগ। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলা এই মামলার রায় সোমবার ঘোষণা করা হয়।
৭৮ বছর বয়সী জিমি লাই ছিলেন ‘অ্যাপল ডেইলি’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা। পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে গেছে আগেই। তাকে প্রথম গ্রেপ্তার করা হয় ২০২০ সালের আগস্টে। এরপর আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা চলে।
আদালতের ভাষায়, এই মামলায় সর্বোচ্চ সাজার ‘শ্রেণিতে’ রাখা হয়েছে লাইকে। কারণ, তিনি এই ষড়যন্ত্রের মূল পরিকল্পনাকারী।
লাই তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আদালতে তিনি বলেন, ‘আমি একজন রাজনৈতিক বন্দি, যাকে বেইজিং থেকে নিপীড়নের শিকার করা হচ্ছে।’
এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছে আন্তর্জাতিক মহল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার তার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, ২০১৯ সালের গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের পর হংকংয়ে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের নামে যে দমননীতি চলছে, এটি তার প্রতিফলন।
গণমাধ্যম সুরক্ষা সংস্থার প্রধান জোডি গিন্সবার্গ বলেন, ‘হংকংয়ে আইনের শাসন আজ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। আজকের রায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার কফিনে শেষ পেরেক।’
রায় ঘোষণার দিন সাদা জ্যাকেট পরে আদালতে আসেন লাই। হাসিমুখে হাতজোড় করে সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নাড়েন।
অনেকেই বলছেন, বয়স এবং শারীরিক দুর্বলতার কথা মাথায় রেখে এই ২০ বছরের দণ্ড কার্যত তার মৃত্যুদণ্ডের মতোই। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর এশিয়া পরিচালক ইলেইন পিয়ারসন বলেন, ‘এই সাজা নিষ্ঠুর এবং গভীরভাবে অন্যায্য।’
অ্যাপল ডেইলির ছয়জন সাবেক কর্মকর্তা, একজন কর্মী এবং একজন আইনি সহকারীও একই মামলায় দণ্ডিত হচ্ছেন।
এই রায়ের প্রতিবাদ জানিয়ে অনেকেই আদালতের বাইরে অপেক্ষা করেছিলেন দিনের পর দিন। ৬৪ বছর বয়সী একজন সমর্থক বলেন, ‘লাই হংকংয়ের বিবেক। তিনি শুধু হংকং নয়, চীনের ভুল বিচার ও গণতন্ত্রের পক্ষে সবসময় কথা বলেন।’

