ট্রাম্প বললেন ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে, একই সঙ্গে মার্কিন সেনাবাহিনী ভূপাতিত করল ইরানি ড্রোন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। উদ্দেশ্য—পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের উত্তেজনা কমানো।
এই ঘোষণার মধ্যে হঠাৎ করেই একটি ঘটনা ঘটে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’-এর কাছে পৌঁছে যাওয়া একটি ইরানি ড্রোনকে গুলি করে ভূপাতিত করে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আলোচনা চলছে। তারা কিছু করতে চায়। দেখা যাক কী হয়।’ তবে তিনি জানাননি, এই আলোচনা কোথায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, কিছুদিন আগেও ইরান একটা সুযোগ পেয়েছিল, কিন্তু তা সফল হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা করেছিলাম "মিডনাইট হ্যামার"। আমার মনে হয় না তারা আবার সেটি দেখতে চায়।’
২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও নৌবাহিনী একযোগে ইরানের তিনটি পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল।
ট্রাম্প এখনো ইরানকে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় রাজি করাতে চাপ দিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি সরকারবিরোধী আন্দোলনে দমন-পীড়নের পর তিনি ইরানকে আবার হামলার হুমকিও দিয়েছেন।
গত সপ্তাহে পারস্য উপসাগরে পাঠানো হয় বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন। এতে করে সেখানে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ে।
এই রণতরীটির সঙ্গে ছিল তিনটি ডেস্ট্রয়ার ও তিনটি ছোট যুদ্ধজাহাজ। এতে যুক্ত হয় প্রায় ৫,৭০০ মার্কিন সেনা।
তবে পরিস্থিতি একটু করে শান্ত হতে শুরু করেছে। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ একসঙ্গে শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে।
এর মধ্যেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জানান, তিনি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘সম্মানজনক ও ন্যায্য আলোচনার’ পথ খোঁজা হয়।
পেজেশকিয়ান বলেন, ‘শুধু তখনই এই আলোচনা সম্ভব, যদি পরিবেশ অনুকূল থাকে।’ তিনি আরও বলেন, এই আলোচনা হবে কেবল দেশের স্বার্থ রক্ষার ভিত্তিতে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ থেকে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান আত্মরক্ষার জন্যই ইরানি ড্রোনটিকে গুলি করে।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহেদ-১৩৯ নামের ওই ড্রোনটি ‘আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে’ রণতরীর দিকে এগিয়ে আসে এবং হুশিয়ারির পরও পিছু হটেনি। তখনই ড্রোনটিকে ধ্বংস করা হয়।
তবে এই ঘটনায় ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য আসেনি।
তেহরানভিত্তিক তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানায়, ড্রোনটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় সফলভাবে তথ্য পাঠানোর পর এর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

