Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

চীনের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক চায় ব্রিটেন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি লক্ষ্য স্টারমারের

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০৪ এএম

চীনের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক চায় ব্রিটেন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি লক্ষ্য স্টারমারের

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বলেছেন, তিনি এমন এক ‘পরিপক্ব সম্পর্ক’ গড়ে তুলতে চান, যা উভয় দেশের প্রবৃদ্ধি ও নিরাপত্তা বাড়াতে সহায়ক হবে। সম্পর্কের দীর্ঘ টানাপড়েনের পর এই মন্তব্যকে দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্বে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত আট বছরে ব্রিটিশ কোনো প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে যাননি। এই প্রেক্ষাপটে স্টারমারের চারদিনের সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনে বৃহস্পতিবার, বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রেসিডেন্ট শির সঙ্গে তার দীর্ঘ বৈঠক হয় এবং পরে তারা একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।

স্টারমারের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রতিশ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এই বাস্তবতায় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নকে তিনি প্রাধান্য দিচ্ছেন। যদিও চীনের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ এখনো রয়েছে।

বৈঠকের শুরুতে স্টারমার বলেন, ‘চীন এখন একটি বৈশ্বিক শক্তি। আমাদের প্রয়োজন এমন একটি সম্পর্ক, যেখানে আমরা সহযোগিতার ক্ষেত্র খুঁজে পাব এবং যেখানে মতভেদ থাকলেও তা নিয়ে খোলামেলা ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চালিয়ে যেতে পারব।’

জবাবে প্রেসিডেন্ট শি বলেন, চীন ও ব্রিটেনের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই নানা চড়াই-উৎরাইয়ের মধ্য দিয়ে গেছে, যা কোনো পক্ষেরই স্বার্থে নয়। তিনি বলেন, চীন একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়তে প্রস্তুত।

সম্প্রতি চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে পশ্চিমা দেশগুলোর কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনিশ্চিত নীতির প্রেক্ষিতে দেশগুলো কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা করতে চাচ্ছে।

স্টারমারের সফরের একদিন আগেই কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বেইজিং সফরে চীনের সঙ্গে একটি অর্থনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। আর এর জেরে ট্রাম্প প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

কিংস কলেজ লন্ডনের চীন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক কেরি ব্রাউন মনে করেন, এই সফর থেকে ব্রিটেন ও চীনের মধ্যে কয়েকটি চুক্তি ঘোষণা হতে পারে, যা সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত দেবে। তিনি বলেন, ‘এই সফরকে সফল দেখাতে হবে। কারণ উভয় দেশই চায় না, এ বৈঠকে কেবল মতবিরোধ নিয়েই কথা হোক।’

স্টারমার তার সফরে ৫০ জনেরও বেশি ব্যবসায়ী নেতাকে সঙ্গে নিয়ে গেছেন। চীনের সঙ্গে নতুন এক সম্পৃক্ততার নীতি গ্রহণ করেছেন তিনি, যা পূর্ববর্তী কনজারভেটিভ সরকারগুলোর অবস্থান থেকে ভিন্ন। তখন ব্রিটেন জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগে চীনা বিনিয়োগে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছিল এবং হংকংয়ে রাজনৈতিক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ নিয়ে সরব ছিল।

শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে স্টারমার বলেন, ‘দেড় বছর আগে আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, ব্রিটেনকে আবারও বিশ্বমুখী করব। কারণ, আমরা জানি—বিদেশের ঘটনাগুলোর প্রভাব পড়ে আমাদের দেশের বাজার থেকে শুরু করে নিরাপত্তার ওপর পর্যন্ত।’

তবে ব্রিটেনের বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক বলেন, তিনি চীনে যেতেন না, কারণ চীন ব্রিটেনের জন্য নিরাপত্তা হুমকি। ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, চীন নিয়মিত ব্রিটিশ সরকারের ওপর নজরদারি করে। যদিও চীন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

তবে দুই দেশের সম্ভাব্য সহযোগিতার দিক নির্দেশ করে ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, ব্রিটেন ও চীন একযোগে অবৈধ অভিবাসন পাচার চক্রের বিরুদ্ধে কাজ করবে। চীনে তৈরি ছোট নৌকার ইঞ্জিন ব্যবহার করে যেসব চক্র ইউরোপে মানুষ পাচার করে, তা কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ব্রিটিশ ও চীনা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পাচারকারীদের সরবরাহচক্র চিহ্নিত করতে তথ্য ভাগাভাগি করবে। এ ছাড়া, চীনা নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করে বৈধ ব্যবসা যেন অপরাধচক্রের দ্বারা ব্যবহার না হয়, তা নিশ্চিত করা হবে।

বেইজিং যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের স্টারমার বলেন, মানবাধিকার বিষয়েও তিনি প্রেসিডেন্ট শির সঙ্গে কথা বলবেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, হংকংয়ের সাবেক মিডিয়া টাইকুন ও ব্রিটিশ নাগরিক জিমি লাইয়ের বিষয়ে তিনি আলোচনা করবেন কি না, যিনি ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে দোষী সাব্যস্ত হন।

তবে সফরের মূল গুরুত্ব যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক, তা স্পষ্ট হয় সফরসঙ্গীদের তালিকা ও কর্মসূচি থেকেই। বেইজিংয়ে পৌঁছে স্টারমার বলেন, চীনের সঙ্গে এখন প্রয়োজন একটি ‘পরিণত সম্পর্ক’।

এরপর তিনি এক চাইনিজ রেস্টুরেন্টে নৈশভোজে অংশ নেন, যা মাশরুম-নির্ভর খাবারের জন্য জনপ্রিয় এবং যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ট্রেজারি সেক্রেটারি জ্যানেট ইয়েলেন ২০২৩ সালে খেয়েছিলেন। এক ভিডিওতে দেখা যায়, রেস্টুরেন্টের কর্মীদের সঙ্গে ছবি তোলার সময় স্টারমার ‘ধন্যবাদ’ অর্থে চীনা শব্দ ‘শিয়ে শিয়ে’ কীভাবে উচ্চারণ করতে হয়, তা নিয়ে আলোচনায় মাতেন। 

সূত্র: রযটার্স

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন