Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

ইতালিতে ক্ষোভ বাড়ছে আইস-সদস্য আনার সিদ্ধান্তে

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:১৫ এএম

ইতালিতে  ক্ষোভ বাড়ছে আইস-সদস্য আনার সিদ্ধান্তে

ইতালিতে  ক্ষোভ বাড়ছে আইস-সদস্যদের নিরাপত্তার কাজে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে। মার্কিন অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগকারী সংস্থা ‘আইস’-এর কিছু সদস্যকে ইতালি আনা হচ্ছে। আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় মিলান-কোর্তিনা শীতকালীন অলিম্পিকে নিরাপত্তা কার্যক্রমে সহায়তা করার জন্য।

মার্কিন শহর মিনিয়াপলিসে অভিবাসনবিরোধী অভিযানে দুইজন নিহত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে অনেক গুণ।

ইতালির বর্তমান ও সাবেক আইনপ্রণেতারা প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন, যাতে এই মার্কিন সংস্থার সদস্যরা ইতালিতে প্রবেশ করতে না পারে।

তবে মার্কিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (ডিএইচএস) এক বিবৃতিতে জানাচ্ছে, আইস এজেন্টরা অলিম্পিকে ‘নিরাপত্তা সহায়তা’ প্রদান করবে, তারা ইতালিতে কোনো অভিযান চালাবে না।

ডিএইচএস জানায়, আইস-এর ‘হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস’ শাখা কেবল মার্কিন কূটনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগকে সহায়তা করবে এবং সকল নিরাপত্তা তৎপরতা ইতালির কর্তৃপক্ষের অধীনেই পরিচালিত হবে।

মঙ্গলবার, ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ানতেদোসি যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত তিলম্যান ফের্তিতার সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে নিশ্চিত করা হয়, আইস-এর কেবল তদন্ত শাখার কর্মকর্তারাই অলিম্পিকে থাকবেন, কোনো অভিযানকারী সদস্য নয়।

ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘তারা কেবল কূটনৈতিক মিশনের আওতায় কাজ করবে। মাঠপর্যায়ে কোনো তৎপরতা চালাবে না।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি রেডিওতে বলেন, ‘এটা এমন না যে তারা রাস্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে আসছে। তারা কেবল অপারেশন রুমে কাজ করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটা মিনিয়াপলিসের সেই আইস না, যারা অস্ত্র হাতে রাস্তায় নামে।’

এই বিতর্কের মধ্যেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী জিউসেপে কন্তে সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘যেসব দেশে আইস-এর হাতে মানুষ নিহত হচ্ছে, সেই একই সংস্থাকে আমাদের দেশে নিরাপত্তা দিতে পাঠানো হবে—এটা মেনে নেওয়া যায় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার পরিস্থিতিকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করেছে, কিন্তু আইস নিজেই বলছে তারা নিরাপত্তা দিতে আসছে। আমাদের স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে।’

মিলানের মেয়র জিউসেপে সালা এক কঠোর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমরা আইস চাই না। তারা এখানে স্বাগত নয়।’

সালা বলেন, ‘তারা হলো এমন একটি বাহিনী যারা হত্যা করে। আমরা কি কখনও ট্রাম্পকে না বলতে পারি না? এটা কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয় নয়, তবে “না” বলা কি আমাদের অধিকার নয়?’

তিনি যোগ করেন, ‘তারা আমাদের গণতান্ত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে একমত নয়। তাই তাদের ইতালিতে আসা উচিত নয়।’

অন্যদিকে, বর্ষীয়ান রাজনীতিক কার্লো কালেনদা বলেন, ‘আইস হলো এক সহিংস, অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও নিয়ন্ত্রণহীন বাহিনী। তাদের একেবারেই ইতালিতে পা রাখার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।’

সূত্র: সিএনএন

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন