ফিলিপাইনে ফেরি ডুবে প্রাণ গেল ১৫ জনের
ফেরিটিতে ৩৫০ জনের বেশি মানুষ ছিলেন। এর মধ্যে অনেকেই সাঁতরে তীরে পৌঁছাতে সক্ষম হন।
ফিলিপাইন কোস্টগার্ড জানিয়েছে, অন্তত ৩১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ২৮ জন।
দুর্ঘটনাটি ঘটে রোববার রাতে। ‘এমভি ত্রিশা কের্সটিন–৩’ নামের এই ফেরিটি জাম্বোয়াঙ্গা শহর থেকে সুলুর জোলো দ্বীপের দিকে যাত্রা করেছিল।
যাত্রার চার ঘণ্টা পর, রাত ১টা ৫০ মিনিটে ফেরিটি বিপদের সংকেত পাঠায়। এ সময় সেটি বাসিলানের বালুক-বালুক দ্বীপের কাছাকাছি ছিল, উপকূল থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে।
আবহাওয়া ছিল ভালো, কিন্তু ঠিক কী কারণে ফেরিটি ডুবেছে তা এখনো পরিষ্কার নয়।
মিন্দানাওয়ের কোস্টগার্ড কমান্ডার রোমেল দুয়া জানিয়েছেন, ‘রাতেই উদ্ধার কাজ শুরু হয়। নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীও সহায়তায় এগিয়ে আসে। একটি কোস্টগার্ড বিমান এখনো এলাকায় কাজ করছে।’
বাঁচিয়ে তোলা যাত্রীদের মধ্যে যাদের চিকিৎসার দরকার ছিল, তাদের নেওয়া হয়েছে রাজধানীর একটি হাসপাতালে।
সেখানে কর্মরত চিকিৎসাকর্মী রোনালিন পেরেজ বলেন, ‘সমস্যা হলো রোগীর সংখ্যা এত বেশি, অথচ জনবল কম।’
বাসিলানের গভর্নর মুজিভ হাতামান ফেসবুকে কিছু ভিডিও পোস্ট করেছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, ইসাবেলার বন্দরে উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের নামিয়ে আনা হচ্ছে। কারও গায়ে কম্বল, কাউকে স্ট্রেচারে করে নামানো হচ্ছে।
হাতামান একটি রেডিওতে বলেন, ‘বেশিরভাগ যাত্রী ভালো আছেন। তবে কয়েকজন বয়স্ক যাত্রী গুরুতর অবস্থায় আছেন।’
তিনি আরও জানান, এখনও যাত্রী তালিকা যাচাই করে দেখা হচ্ছে—সবাই উদ্ধার হয়েছেন কিনা।
কোস্টগার্ড কমান্ডার দুয়া জানান, ফেরিটির যাত্রার আগে তা নিয়ম মেনে ছাড়ার অনুমতি পেয়েছিল। অতিরিক্ত যাত্রী ছিল না বলেই প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে।
ফিলিপাইনে সাগরপথে দুর্ঘটনা নতুন কিছু নয়। প্রায়ই ঝড়, নৌযানের খারাপ অবস্থা, অতিরিক্ত যাত্রী এবং নিরাপত্তাবিধির দুর্বল বাস্তবায়নের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে।
এই দুর্ঘটনার মাত্র কয়েকদিন আগেই, শুক্রবার মিন্ডানাও অঞ্চলের উপকূলে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে যায়। সেই ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়, ১৫ জন উদ্ধার হন এবং আরও চারজন নিখোঁজ রয়েছেন।
এর আগের সোমবার, মিন্ডানাওয়ের ডাভাও অঞ্চলে একটি বেসরকারি নৌযান ডুবে গিয়ে মৃত্যু হয় অন্তত ছয়জনের, নিখোঁজ হয় নয়জন।
ফিলিপাইনে সবচেয়ে বড় সামুদ্রিক দুর্ঘটনা ঘটে ১৯৮৭ সালে।
তখন ‘ডোনা পাজ’ নামের একটি ফেরি জ্বালানিবাহী ট্যাংকারের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ডুবে যায়। প্রাণ হারায় ৪৩০০’র বেশি মানুষ—যা শান্তিকালীন সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ নৌদুর্ঘটনা।
সূত্র: আল জাজিরা

