Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

অভিবাসন এজেন্টের গুলিতে আরও এক মার্কিন নাগরিক নিহত

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৩ এএম

অভিবাসন এজেন্টের গুলিতে আরও এক মার্কিন নাগরিক নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিসে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের গুলিতে আরও এক মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছে স্থানীয় জনগণ। নিহত ব্যক্তির নাম অ্যালেক্স প্রেটি, বয়স ৩৭। তিনি একজন আইসিইউ নার্স ছিলেন। এই মাসে এটি দ্বিতীয়বারের মতো এ ধরনের ঘটনা, যা নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বলছে, একজন বর্ডার প্যাট্রোল কর্মকর্তা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালান। তাদের ভাষ্যমতে, প্রেটি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে এজেন্টদের ওপর আক্রমণ করেছিলেন। তাকে নিরস্ত করার চেষ্টা চলাকালে তিনি সহিংসভাবে বাধা দেন।

কিন্তু রয়টার্স যাচাইকৃত প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রেটির হাতে ছিল একটি মোবাইল ফোন, আগ্নেয়াস্ত্র নয়। ভিডিওতে দেখা যায়, এজেন্ট এক নারীকে ধাক্কা দিলে প্রেটি সামনে এসে প্রতিবাদ জানান। এরপর তাকে পিপার স্প্রে করা হয়। একাধিক এজেন্ট তাকে মাটিতে ফেলে দেন। একজন এজেন্ট তার কোমর থেকে কিছু একটা টেনে নিয়ে দ্রুত সরে যান।

এরপরই এক কর্মকর্তা তার পিঠ লক্ষ্য করে কাছ থেকে একের পর এক চারটি গুলি চালান। আরও কিছুক্ষণ পর অন্য একজন এজেন্টও গুলি চালান। কিছুক্ষণ পর কয়েকজন কর্মকর্তা তার শরীরে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেন, অন্যরা জনসাধারণকে পেছনে ঠেলে দেয়।

এ ঘটনায় শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে অংশ নেয়। শহরজুড়ে টিয়ার গ্যাস ও ফ্ল্যাশ গ্রেনেড ব্যবহার করে প্রতিবাদ দমন করতে চেষ্টা করে কর্তৃপক্ষ। মিনিয়াপলিস ছাড়াও নিউ ইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি ও সান ফ্রান্সিসকোতেও প্রতিবাদ শুরু হয়।

মিনেসোটা গভর্নর টিম ওয়ালজ বলেন, ‘আমি অনেক দিক থেকে ভিডিওটি দেখেছি। এটি ভয়াবহ। ফেডারেল সরকারকে এই ঘটনার তদন্তে বিশ্বাস করা যায় না। রাজ্য নিজেই তদন্ত করবে।’

স্থানীয় পুলিশপ্রধান ব্রায়ান ও’হারা বলেন, প্রেটি আইনগতভাবে আগ্নেয়াস্ত্রের মালিক ছিলেন, এবং তার নামে কেবল ট্রাফিক লঙ্ঘনের মামলা ছিল।

স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, এই সহিংস অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। মিনিয়াপলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে বলেন, ‘আর কতজন আমেরিকানকে মরতে হবে? আর কত রক্ত ঝরবে এই অপারেশন বন্ধ করার আগে?’

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ‘মেয়র ও গভর্নর নিজেদের বক্তব্য দিয়ে বিদ্রোহ উসকে দিচ্ছেন।’ ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, স্থানীয় নেতারা ইচ্ছাকৃতভাবে অভিবাসন এজেন্টদের সহায়তায় পুলিশ পাঠাচ্ছেন না।

ঘটনার আগেই শহরে উত্তেজনা চরমে ছিল। ৭ জানুয়ারি রেনে গুড নামের আরেক মার্কিন নাগরিকের গুলিতে মৃত্যু, বাড়ি থেকে হাফপ্যান্ট পরে এক নাগরিককে তুলে নিয়ে যাওয়া এবং একজন পাঁচ বছরের ছেলেকে আটক করার ঘটনায় মানুষের মনে ক্ষোভ জমে ছিল।

শনিবারের ঘটনার পর নিরাপত্তার কারণে মিনিয়াপলিস ইনস্টিটিউট অব আর্ট বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং মিনেসোটা টিম্বারওলভসের খেলা স্থগিত করা হয়।

সূত্র: রয়টার্স

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন