ফের চাঁদে যাওয়ার রকেট পৌঁছেছে উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে
নাসার চন্দ্রাভিযানের জন্য তৈরি বিশাল রকেটটি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরালে অবস্থিত উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে পৌঁছেছে। শুরু হয়েছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রায় ৫০ বছর পর আবার মানুষ পাঠানো হবে চাঁদের কক্ষপথে।
রকেটটি বিশাল এক ‘ক্রলার-ট্রান্সপোর্টার’ যন্ত্রে বহন করা হয়। এই যন্ত্রটি ঘণ্টায় মাত্র ১.৩ কিলোমিটার গতিতে চলে। সরাসরি সম্প্রচারে দেখা গেছে, কীভাবে ধীরে ধীরে রকেটটিকে প্যাডে স্থাপন করা হয়।
এখন সেখানে শেষ ধাপের বিভিন্ন পরীক্ষা ও মহড়া হবে। সফল হলে শুরু হবে ১০ দিনের আর্টেমিস-টু মিশন। এতে চারজন নভোচারী চাঁদের চারপাশে ঘুরে ফিরে আসবেন।
এই মিশনে অংশ নেবেন নাসার রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডার নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন। তারা উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে রকেটটি সরিয়ে নেওয়ার দৃশ্য দেখেছেন কাছ থেকে।
এই নভোচারীরা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রকেটের মাথায় বসানো মহাকাশযানে উঠে চাঁদের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। আর্টেমিস-টু হবে ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরের পর প্রথম মানববাহী চন্দ্রাভিযান।
চন্দ্রপৃষ্ঠে নামবে না এই অভিযানে তারা, তবে মহাকাশের আরও গভীরে মানুষ পাঠানোর ভিত্তি তৈরি হবে। পরবর্তী মিশন, আর্টেমিস-থ্রি, চাঁদের মাটিতে মানুষ নামাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে তার সময়সীমা ২০২৭ সাল বলা হলেও বাস্তবে তা ২০২৮ সালের আগে সম্ভব নয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
ক্রিস্টিনা কচ বলেন, রকেটটি কাছ থেকে দেখা এক অবিশ্বাস্য অনুভূতি। তার ভাষায়, ‘অভিযানের দিন নভোচারীরা সবচেয়ে শান্ত থাকে। কারণ, আমরা জানি—আমাদের কাজ কী, এবং আমরা তার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।’
জেরেমি হ্যানসেন বলেন, ‘চাঁদকে এতদিন দূর থেকে দেখে আসছি, কিন্তু এবার যেহেতু মানুষ চাঁদের উল্টো পৃষ্ঠে ঘুরে বেড়াবে, সবার দৃষ্টিও চাঁদের দিকে আরও নিবিষ্ট হবে। এটা মানবজাতির জন্য ভালো।’
চাঁদের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে প্রথম দুই দিন এই অভিযাত্রীরা পৃথিবীর কক্ষপথেই থাকবেন। কচ বলেন, তখন তারা পৃথিবীকে একটি সম্পূর্ণ গোলক হিসেবে জানালার বাইরে দেখতে পাবেন—যেটা আগে কখনো দেখা হয়নি।
চাঁদের কাছাকাছি পৌঁছালে তারা তিন ঘণ্টা ব্যয় করবেন কক্ষপথ থেকে চাঁদের ভূপৃষ্ঠ পর্যবেক্ষণে। ছবি তুলবেন, ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করবেন—যা ভবিষ্যতের চাঁদের দক্ষিণ মেরু অভিযানের প্রস্তুতিতে সাহায্য করবে।
এই মিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ‘ইউরোপিয়ান সার্ভিস মডিউল’, যেটি তৈরি হয়েছে জার্মানির ব্রেমেনে। এটি তৈরি করেছে এয়ারবাস এবং এটি ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার (ইএসএ) অবদান।
এয়ারবাসের প্রকৌশলী সিয়ান ক্লিভার বলেন, ‘এই মডিউল ছাড়া আমরা চাঁদে যেতে পারতাম না। এটি মহাকাশযানে শক্তি, অক্সিজেন, পানি এবং থ্রাস্ট সিস্টেম সরবরাহ করে। নভোচারীদের নিরাপদে রাখা ও ফিরিয়ে আনার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
প্রতিটি মডিউল তৈরি করতে সময় লাগে প্রায় ১৮ মাস। প্রতিটি অংশ নিখুঁতভাবে কাজ করতেই হবে—কারণ, এখানে ভুলের কোনো জায়গা নেই।
মিশনের ব্যবস্থাপনা দলের প্রধান জন হানিকাট বলেন, ‘আমার দায়িত্ব একটাই—রিড, ভিক্টর, ক্রিস্টিনা আর জেরেমিকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা। আমরা প্রস্তুত হলেই রওনা হবো। নিরাপত্তাই আমাদের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।’

