Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

খামেনি বললেন, কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, কেউ কেউ ‘অমানবিক ও বর্বর উপায়ে’ প্রাণ হারিয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১৮ পিএম

খামেনি বললেন, কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, কেউ কেউ ‘অমানবিক ও বর্বর উপায়ে’ প্রাণ হারিয়েছে

ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে সহস্রাধিক মানুষের প্রাণহানির কথা স্বীকার করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে—তাদের কেউ কেউ ‘অমানবিক ও বর্বর উপায়ে’ প্রাণ হারিয়েছে। এই সহিংসতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন তিনি।

বক্তৃতায় খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘অপরাধী’ আখ্যা দেন। বিক্ষোভে ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থনেরও তীব্র নিন্দা করেন। তিনি বলেন, ‘সৃষ্টিকর্তার কৃপায়, ইরানি জাতিকে যেন আবারও ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হয়।’

শনিবার, ইরানের সরকারি সূত্র থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। এতে দাবি করা হয়, বিক্ষোভকারীদের ভিড়ে অস্ত্রধারী ও ছুরি বহনকারী কিছু লোকজনও ছিল—যাদের বিদেশি নাশকতাকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

এদিকে, দেশটির প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা আহমদ খাতামি বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন। তার ভাষায়, ‘সশস্ত্র মুনাফিকদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উচিত।’ তিনি বিক্ষোভকারীদের ‘ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের দালাল’ বলেও অভিহিত করেন এবং বলেন, ‘এই দুটি দেশ শান্তির কোনো আশা করতে পারে না।’

আহমদ খাতামি ইরানের গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য এবং অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের জ্যেষ্ঠ সদস্য। এই পরিষদই দেশের সর্বোচ্চ নেতাকে নির্বাচন করে। খাতামি রাজনৈতিকভাবে কঠোর অবস্থানে থাকা একজন প্রভাবশালী আলেম।

এই বক্তব্য ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থানের সঙ্গে স্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক। এই সপ্তাহে তিনি জানান, ইরান সরকার বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে এবং সে জন্য তিনি ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ট্রাম্প দাবি করেন, প্রায় ৮০০ বিক্ষোভকারীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছিল, যা বন্ধ করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যার উৎস সম্পর্কে কিছু জানাননি তিনি।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বরাতে জানা গেছে, এখনো দমন-পীড়ন থেমে নেই। হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ৩০৯০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৪০০০ অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন। বিক্ষোভে ২২ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা আটককৃতদের প্রতি সহিংসতা ও নিপীড়নের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিক্ষোভের শুরু ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর, যখন তেহরানে হঠাৎ করে রিয়ালের মান কমে যায়। এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নেমে আসেন। ধীরে ধীরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং সরকারের পদত্যাগের দাবিতে রূপ নেয়। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর এটি ইরানের সবচেয়ে বড় এবং রক্তক্ষয়ী গণআন্দোলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরকারের দমননীতির ফলে রাজপথে আন্দোলন কিছুটা থেমে গেলেও, সরকার জনসমক্ষে সংশ্লিষ্টদের শাস্তি দেওয়ার মাধ্যমে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে—যেন এটি বিদেশি শক্তির মদদপুষ্ট একটি ষড়যন্ত্র ছিল।

খাতামি তার শুক্রবারের খুতবায় বলেন, বিক্ষোভকারীরা ৩৫০টি মসজিদ, ১২৬টি নামাজঘর এবং ২০টি ধর্মীয় স্থানে হামলা চালিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ৪০০টি হাসপাতাল, ১০৬টি অ্যাম্বুলেন্স, ৭১টি ফায়ার ট্রাক এবং ৫০টি জরুরি সেবার গাড়ি নষ্ট করা হয়েছে।

এই আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কী, তা এখনো অনিশ্চিত। বিক্ষোভ আবারও ছড়িয়ে পড়বে কি না তা বলা কঠিন। কারণ ইরানে ইন্টারনেট প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে, যার ফলে জনগণ কার্যত বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন।

এই সময়েও সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দিয়ে যাচ্ছেন রেজা পাহলভি। ইরানের প্রয়াত শাহের ছেলে ও সাম্প্রতিক বিক্ষোভে অন্যতম প্রবল বিরোধী কণ্ঠ রেজা, শুক্রবার ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে আবারও সরকারের পতনের আহ্বান জানান। তিনি ট্রাম্পের প্রতি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি প্রেসিডেন্ট তার কথা রাখেন। আমাদের সামনে একটাই পথ—এই লড়াই চালিয়ে যাওয়া।’

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন