ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন আসন্ন, নেতৃত্বে নিজেকে ‘বিশেষভাবে উপযুক্ত’ বলে দাবি শাহপুত্র রেজা পাহলভীর
ইরানের সাবেক রাজা মোহাম্মদ রেজা পাহলভীর পুত্র রেজা সিরি পাহলভী বিশ্বাস করেন, দেশের বর্তমান ইসলামি শাসনব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে, এবং সেই পতনের পর নেতৃত্ব নিতে তিনিই সবচেয়ে প্রস্তুত ও উপযুক্ত ব্যক্তি।
সম্প্রতি ইরানজুড়ে চলা গণআন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। কঠোর দমন-পীড়নের মধ্যেও বিক্ষোভ থামেনি। এই প্রেক্ষাপটেই ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন রেজা পাহলভী।
তিনি বলেন, ইরানি জনগণ এখন মাটিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লড়ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এখন উচিত তাদের পাশে এসে দাঁড়ানো। তার মতে, বাইরের সাহায্য মানে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ নয়, বরং ইরানের দমনযন্ত্রের বিরুদ্ধে নির্দিষ্টভাবে ব্যবস্থা নেওয়া। বিশেষ করে, বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ জরুরি।
রেজা পাহলভীর দাবি, বিদেশি সহায়তা ছাড়াও এই শাসনব্যবস্থা ধ্বংস হবে। তবে, যদি বিশ্ব সক্রিয়ভাবে পাশে দাঁড়ায়, তাহলে তা আরও দ্রুত হবে এবং অনেক জীবন বাঁচানো যাবে।
তিনি আরও বলেন, মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় ১২ হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। যদিও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ সংখ্যা কিছুটা কম বলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরান সরকার যদি আরও বিক্ষোভকারীকে হত্যা বা গ্রেপ্তারদের ফাঁসি কার্যকর করে, তাহলে ‘সাহায্য আসছে’। তবে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সতর্কতায় তিনি সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে আসেন।
ট্রাম্প পরে ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ নামক নিজের মাধ্যমে বলেন, তিনি শুনে আনন্দিত যে ইরানের সরকার নির্ধারিত ৮০০-রও বেশি ফাঁসির আদেশ বাতিল করেছে।
রেজা পাহলভীর নাম ও ‘শাহ জিন্দাবাদ’ স্লোগান এখন ইরানের রাস্তায়ও শোনা যাচ্ছে। এটি একটি ব্যতিক্রমী দৃশ্য, কারণ তার পিতার রাজত্বও গণবিক্ষোভের মধ্য দিয়েই পতন হয়েছিল—যেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘন, নির্যাতন ও স্বেচ্ছাচারের অভিযোগ ছিল প্রবল।
তিনি স্পষ্ট করে বলেননি, তিনি কি রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চান। তবে জানিয়েছেন, তার কাছে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা আছে—শান্তিপূর্ণভাবে নতুন সরকার গঠনের জন্য, যার মধ্যে গণভোটের মাধ্যমে শাসনব্যবস্থা নির্ধারণের প্রস্তাবও রয়েছে।
তার ভাষায়, ‘আমি এই রূপান্তরের জন্য বিশেষভাবে উপযুক্ত, এটা ইরানি জনগণই বলছে। তারা গুলির মুখেও আমার প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে।’
তিনি দাবি করেন, নিরাপত্তা বাহিনীর বড় একটি অংশ ইতিমধ্যেই বিক্ষোভকারীদের দিকে গুলি চালাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং চুপিসারে তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছে।
তার মতে, জনগণের সঙ্গে তার সম্পর্ক ‘জন্ম থেকেই’, আর এই সম্পর্ক কখনও ভাঙবে না, এমনকি নির্বাসনেও না।

