Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক, ইরানে প্রাণঘাতী বিক্ষোভ নিয়ে তীব্র আলোচনা

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:১৯ পিএম

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক, ইরানে প্রাণঘাতী বিক্ষোভ নিয়ে তীব্র আলোচনা

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বক্তব্য রাখছেন জাতিসংঘে ইরানের প্রতিনিধি গোলাম হোসেন দারজি। [ছবি: মাইকেল এম. সান্তিয়াগো/গেটি ইমেজেস, এএফপি]

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানে চলমান প্রাণঘাতী বিক্ষোভ নিয়ে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বক্তব্য বিনিময় হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে।

নিউইয়র্কে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জাতিসংঘে ইরানের প্রতিনিধি গোলাম হোসেন দারজি বলেন, তারা সংঘাত চায় না, তবে ইরানের ওপর যদি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে আগ্রাসন চালানো হয়, তাহলে তার জবাব হবে আইনি, কঠোর ও সমুচিত। তিনি বলেন, ‘এটা হুমকি নয়, এটা বাস্তবতা।’

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি মাইক ওয়াল্টজ অভিযোগ করেন, ইরান সরকার তার জনগণের বিরুদ্ধে ভয়াবহ দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ইরানের মানুষ তাদের স্বাধীনতার জন্য রাস্তায় নেমেছে। সরকার এখন নিজের জনগণকে ভয় করছে।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, চলমান ইন্টারনেট বন্ধ থাকার ফলে আসল পরিস্থিতি যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব মার্থা পবি জানান, ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের বাজারে মুদ্রার দরপতন ও মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদ শুরু করলে তা দ্রুত সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এতে এখন পর্যন্ত বহু প্রাণহানি ঘটেছে। 

পবি বলেন, মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে ১৮ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যদিও জাতিসংঘ এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

তিনি আহ্বান জানান, বিক্ষোভে গ্রেপ্তার হওয়া মানুষদের মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে এবং এ নিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধ রাখতে হবে। সকল হত্যার ঘটনা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় আনতে হবে।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তেহরানের নেই। তিনি বলেন, ‘ফাঁসি দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।’

সভায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইরানি সাংবাদিক ও সরকারবিরোধী কণ্ঠ মাসিহ আলিনেজাদ বলেন, ‘আপনারা আমাকে তিনবার হত্যা করতে চেয়েছেন, শুধু এজন্য যে আমি সাধারণ মানুষের কথা বলি, যাদের আপনারা হত্যা করছেন।’

এই বৈঠকের দিনই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এর মধ্যে আছেন আলী লারিজানি, যিনি ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারাই বিক্ষোভ দমন অভিযানের ‘প্রধান রূপকার’।

বছরের পর বছর ধরে কঠোর নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত ইরানের অর্থনীতি মারাত্মক সংকটে। এই সংকটই মূলত ইরানের সাম্প্রতিক গণআন্দোলনের পেছনে অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন