‘ফাঁসি নয়’ বলছে তেহরান, ‘চোখ রাখছি’ বলছে ট্রাম্প: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় নতুন মোড়
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, সরকার বিক্ষোভকারীদের ফাঁসিতে ঝোলানোর কোনো পরিকল্পনা নেয়নি। তার এই বক্তব্য এসেছে এমন এক সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন—তিনি আশ্বস্ত হয়েছেন, ইরানে আর কোনো বিক্ষোভকারীকে হত্যা করা হচ্ছে না এবং পূর্বনির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরও থেমে গেছে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, ‘ফাঁসির বিষয়টি একেবারেই বিবেচনার মধ্যে নেই।’ তার এই মন্তব্য আসে এমন মুহূর্তে, যখন কাতারের একটি মার্কিন ঘাঁটি থেকে কিছু মার্কিন কর্মকর্তা প্রত্যাহার শুরু হয়, এবং নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ‘অপর পক্ষের গুরুত্বপূর্ণ কিছু সূত্রের’ সঙ্গে কথা বলেছেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। যদিও তিনি সামরিক পদক্ষেপ পুরোপুরি নাকচ করেননি, তবে জানিয়েছেন, ‘প্রক্রিয়াটি কেমন হয়’ তা দেখা হবে।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো থেকে বোঝা যায়, ইরানের বিষয়ে তার কণ্ঠে কিছুটা নমনীয়তা এসেছে।
ওয়াশিংটনের ‘সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসি’র সিনিয়র গবেষক সিনা তুসি বলেন, ট্রাম্প হয়তো সম্মান রক্ষার একটি পথ খুঁজছেন, যাতে করে সামরিক হস্তক্ষেপ না করেও পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা যায়। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এর মানে এই নয় যে সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা একেবারে শেষ হয়ে গেছে।
বিশ্লেষক বারবারা স্ল্যাভিন মনে করেন, ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি কোনো সংঘাতে জড়াতে চান না, কিন্তু আবার একটি ‘দ্রুত বিজয়ের’ আশাও রাখেন। তিনি ধারণা দেন, ট্রাম্প হয়তো সীমিত আকারে কিছু পদক্ষেপ নিতে পারেন, যাতে ইরানি জনগণকে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা যায়, তবে বড় ধরনের যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হয়।
এর আগে, বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটি থেকে কিছু কর্মকর্তা সরিয়ে নেয়। এর পেছনে কারণ, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোকে আগেই জানিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে তাদের ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানা হবে।
এমন পরিস্থিতিতে, ইরানও প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর বলেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘চূড়ান্ত জবাব’ দিতে প্রস্তুত।
পাকপুর এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা শত্রুর যেকোনো ভুল সিদ্ধান্তের জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’ তিনি ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে ‘ইরানি তরুণদের হত্যাকারী’ বলেও অভিহিত করেন।
আরাগচি বলেন, ৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সহিংসতার তিন দিন পর দেশব্যাপী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ‘এখন শান্তি ফিরে এসেছে। আমরা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আছি।’

