Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

ইরানে বিক্ষোভ দমনে নিহত ২৫৭১, গ্রেপ্তার ১৮ হাজার

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৪ এএম

ইরানে বিক্ষোভ দমনে নিহত ২৫৭১, গ্রেপ্তার ১৮ হাজার

ইরানে বিক্ষোভ দমনে নিহতের সংখ্যা ২,৫৭১ ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ)। সংগঠনটি জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ১৮ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১২ জন শিশু রয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীদের ফাঁসি দেওয়া শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব কঠোর ব্যবস্থা’ নেবে। 

সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘যদি তারা এমন কিছু করে, আমরা খুব শক্ত পদক্ষেপ নেব।’

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানিকে গ্রেপ্তারের কয়েক দিনের মধ্যেই বিচার হয়েছে। আজ বুধবার তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এরফান রাজধানী তেহরানের বাইরে কারাজ শহরে গ্রেপ্তার হন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, ইরানি কর্তৃপক্ষ আবারও দ্রুত বিচার এবং নির্বিচারে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে মতপ্রকাশ দমন করতে চাইছে।

ট্রাম্প বলেন, ইরানে কী ঘটছে, তা আমলে নিচ্ছেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “তারা যখন হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করতে শুরু করে, আর এখন আপনি বলছেন ফাঁসি—দেখা যাক এটা তাদের জন্য কীভাবে শেষ হয়। তবে ভালো হবে না।”

এর আগে ট্রুথ সোশালে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইরানের দেশপ্রেমিক জনগণ, আন্দোলন চালিয়ে যান, প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করুন! হত্যাকারীদের নাম মনে রাখুন, তারা বড় মূল্য দেবে। আমি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব বৈঠক বাতিল করেছি, যতক্ষণ না নিরপরাধ মানুষ হত্যার অবসান হয়।’

এর জবাবে জাতিসংঘে ইরানের মিশন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা আবারও ব্যর্থ হবে। তারা বলেছে, ওয়াশিংটনের নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো শাসন পরিবর্তন, যেখানে নিষেধাজ্ঞা, হুমকি, অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করে সামরিক হস্তক্ষেপের সুযোগ খোঁজা হচ্ছে।

ইরানে গত সপ্তাহের শেষ দিকে আন্দোলন চরমে ওঠার পর থেকে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো বিদেশে কল করার সুযোগ পান সাধারণ মানুষ। নিরাপত্তা বাহিনী স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবস্থা স্টারলিংক খুঁজে বেড়াচ্ছে বলে জানাচ্ছে স্থানীয়রা।

এইচআরএএনএ জানিয়েছে, ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে অন্তত ৯৭টি ‘স্বীকারোক্তিমূলক’ সাক্ষাৎকার প্রচার করা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, এসব স্বীকারোক্তি মূলত নির্যাতনের মাধ্যমে আদায় করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডসহ ভয়াবহ শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং সাদা পোশাকে নিরাপত্তাকর্মীরা জনসমাগমে ঘোরাফেরা করছেন। দাঙ্গা পুলিশদের শরীরে হেলমেট, বডি আর্মার, লাঠি, বন্দুক ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপকারী যন্ত্র দেখা গেছে।


Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন