Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

ইরানে কারা সরকারবিরোধী শক্তি?

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৮ পিএম

ইরানে কারা সরকারবিরোধী শক্তি?

ইরানে মূল্যবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক বিক্ষোভ এখন দেশটির ইসলামি শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে দেশটি ধর্মীয় নেতাদের শাসনে পরিচালিত হয়ে আসছে। সর্বশেষ সহিংসতায় সরকারি হিসেবে শতাধিক নিরাপত্তা সদস্য নিহত হলেও বিরোধীদের দাবি, নিহতের সংখ্যা আরও বেশি এবং এতে বহু বিক্ষোভকারীও রয়েছেন। তবে এই তথ্যগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের সরকার বর্তমানে একটি গভীর ও খণ্ডিত বিরোধী আন্দোলনের মুখে পড়েছে, যার একটি অংশ দেশের ভেতরে সক্রিয় থাকলেও বড় অংশটি বিদেশে অবস্থানরত ইরানি প্রবাসীদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী ইরানিরা ইরানের বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে রাস্তায় নেমেছেন।

কেন আন্দোলনের কোনো একক নেতা নেই

মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতি বিশেষজ্ঞ ও অস্ট্রেলিয়ার ডিকিন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শাহরাম আকবরজাদেহ বলেন, ইরানে এমন কোনো ঐক্যবদ্ধ বিরোধী শক্তি নেই, যারা প্রয়োজনে সরকার গঠন করতে পারবে। তার মতে, বিরোধী দলগুলো মতাদর্শগতভাবে বিভক্ত এবং অনেকেই সরকারের প্রতিশোধের ভয়ে সামনে আসতে চান না। অতীতে ২০০৯ সালের ‘গ্রিন মুভমেন্ট’-এর নেতারা দীর্ঘদিন গৃহবন্দি থাকার অভিজ্ঞতা বর্তমান আন্দোলনকারীদের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে আছে।

ফলে বর্তমান বিক্ষোভে ছাত্র সংগঠন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পাড়া-মহল্লাভিত্তিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে স্থানীয় নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে। এটি সাম্প্রতিক বাংলাদেশ ও নেপালের যুব আন্দোলনের মতো নেটওয়ার্কভিত্তিক সংগঠনের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

ইরানের প্রধান বিরোধী শক্তিগুলো

রেজা পাহলভি হলেন ইরানের শেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির পুত্র। যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত অবস্থায় তিনি ইরান ন্যাশনাল কাউন্সিল নামে একটি আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার কথা না বললেও তার সমর্থকদের বড় অংশ সেই পথেই যেতে চায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পাহলভির জনপ্রিয়তা মূলত ইরানি প্রবাসীদের মধ্যে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তৈরি হওয়া নস্টালজিয়াভিত্তিক রাজনীতির ফল।

মেরিয়াম রাজাভি ও মুজাহিদিন-ই-খালক (MEK)

মুজাহিদিন-ই-খালক ছিল একসময় শাহবিরোধী সশস্ত্র বামপন্থী সংগঠন। তবে ইরান–ইরাক যুদ্ধে ইরাকের পক্ষে দাঁড়ানোয় তারা ইরানের জনগণের বড় অংশের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে।

বর্তমানে সংগঠনটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন মেরিয়াম রাজাভি। ইউরোপে তাদের কার্যক্রম থাকলেও ইরানের ভেতরে সংগঠনটির উপস্থিতি প্রায় নেই।

ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক জোট

২০২৩ সালে গঠিত এই জোট ধর্ম ও রাষ্ট্রকে আলাদা করার পক্ষে। তারা অবাধ নির্বাচন ও স্বাধীন বিচারব্যবস্থা চায়। তবে ইরানের অভ্যন্তরে তাদের প্রভাব সীমিত।

কুর্দি ও বালুচ সংখ্যালঘু গোষ্ঠী

ইরানের পশ্চিমে কুর্দি এবং দক্ষিণ-পূর্বে বালুচ জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরেই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছে। বড় বিক্ষোভগুলোতে এই অঞ্চলগুলোতে প্রতিবাদ সবচেয়ে তীব্র হলেও কোনো একক নেতৃত্ব গড়ে ওঠেনি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের বর্তমান আন্দোলন কোনো একজন নেতার ওপর নির্ভরশীল নয়। এটি মূলত একটি জনভিত্তিক, নেটওয়ার্কভিত্তিক গণআন্দোলন। রেজা পাহলভি আন্তর্জাতিকভাবে সবচেয়ে পরিচিত মুখ হলেও বাস্তবে তার কোনো সংগঠিত শক্তি নেই।

এ অবস্থায় ইরানের ইসলামি সরকার একটি বড় রাজনৈতিক চাপে থাকলেও, বিরোধীদের নেতৃত্ব সংকট ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন