Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’ গোষ্ঠীর তিন ব্রিটিশ কর্মী জামিন ও ন্যায্য বিচারের দাবিতে ৭০ দিন অনশনে

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৫৬ পিএম

‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’ গোষ্ঠীর তিন ব্রিটিশ কর্মী জামিন ও ন্যায্য বিচারের দাবিতে ৭০ দিন অনশনে

নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’ গোষ্ঠীর তিন ব্রিটিশ কর্মী জামিন ও ন্যায্য বিচারের দাবিতে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। বন্ধু ও স্বজনদের ভাষ্য, তারা মৃত্যুর খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। তবু দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে তারা অটল।

হেবা মুরাইসি ৭০ দিন ধরে কিছু খাননি। কামরান আহমেদ না খেয়ে আছেন ৬৩ দিন। গত নভেম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে এই অনশন শুরু হয়। তৃতীয় বন্দি লুই চিয়ারামেলো টাইপ ১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। তাই তিনি এক দিন পরপর খাবার না খেয়ে অনশনে অংশ নিচ্ছেন।

এই আন্দোলনে অংশ নেওয়া আটজনের মধ্যে পাঁচজন স্বাস্থ্যগত কারণে অনশন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন।

তাদের রাখা হয়েছে আলাদা কারাগারে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা ব্রিস্টলে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমসের যুক্তরাজ্য শাখায় ভাঙচুরে জড়িত ছিলেন। সেখানে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া অক্সফোর্ডশায়ারের একটি রয়্যাল এয়ার ফোর্স ঘাঁটিতে দুটি সামরিক বিমানে লাল রং ছিটানো হয়। তবে অভিযুক্তরা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এই গোষ্ঠীর দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে জামিন ও ন্যায্য বিচারের অধিকার নিশ্চিত করা। তারা আরও চায়, গত জুলাইয়ে যুক্তরাজ্য সরকার যে সিদ্ধান্তে ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-কে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে, সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হোক। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যে এলবিট সিস্টেমসের সব স্থাপনা বন্ধের দাবি জানিয়েছে তারা। তাদের অভিযোগ, কারাগারের ভেতরে চিঠি, ফোনকল ও বই আটকে রেখে তাদের ওপর সেন্সরশিপ আরোপ করা হচ্ছে, সেটিও বন্ধ করতে হবে।

এই আটজনের সবাই বিচার ছাড়াই এক বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে আছেন। যা যুক্তরাজ্যে বিচার-পূর্ব আটক থাকার প্রচলিত ছয় মাসের সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

দীর্ঘ সময় অনাহারে থাকলে শরীরের ওপর কী প্রভাব পড়ে, সে বিষয়ে চিকিৎসকেরা বলেন, কয়েক দিন খাবার না পেলে শরীর শক্তির জন্য পেশি ভাঙতে শুরু করে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দেয়। কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়ে।

এক সময় শরীরের সঞ্চিত শক্তি ফুরিয়ে গেলে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোও ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুস দুর্বল হয়ে পড়ে। পেশি শুকিয়ে যায়। চরম দুর্বলতা দেখা দেয়। শেষ পর্যায়ে শরীর নিজের টিস্যু ভাঙতে শুরু করে। তখন মৃত্যু খুব কাছাকাছি চলে আসে।

সূত্র: আল জাজিরা

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন