কারাকাস
নিষেধাজ্ঞা আর আন্তর্জাতিক চাপে থমথমে ভেনেজুয়েলায় নতুন আশার ইঙ্গিত দেখা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর গ্রেপ্তারের পাঁচ দিনের মাথায়, সরকার একাধিক রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
দেশটির সংসদের সভাপতি হোর্হে রোদ্রিগেস জানিয়েছেন, এটি একটি একতরফা পদক্ষেপ, যার উদ্দেশ্য হলো দেশে ‘শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সংলাপের পরিবেশ তৈরি করা’।
যেসব রাজবন্দিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে আছেন বিরোধী নেতা এনরিকে মার্কেস ও বিআজিও পিলিয়েরি।
স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, পাঁচ স্প্যানিশ নাগরিককেও মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এদের একজন, রোসিও সান মিগুয়েল, স্প্যানিশ–ভেনেজুয়েলীয় আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী। তাকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্রদ্রোহ ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে আটক করা হয়েছিল।
ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া করিনা মাচাদো এই মুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার ভাষায়, ‘আজকের দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—অন্যায় চিরকাল থাকে না।’
মুক্তি পাওয়া মানুষের সংখ্যা এখনো নিশ্চিত নয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাবে, দেশটিতে ৮০০ থেকে ১,০০০ রাজনৈতিক বন্দি রয়েছে। এদের অধিকাংশই ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে আটক হন।
খবরে প্রকাশ, কারাগারের বাইরে অপেক্ষায় আছেন অনেক বন্দির স্বজন। কেউ কেউ বহু বছর ধরে প্রিয়জনের মুক্তির অপেক্ষায়।
স্পেনপ্রবাসী পেদ্রো দুরান ছুটে এসেছেন গুয়ারতির এক কারাগারের সামনে। তার ভাই ফ্রাঙ্কলিন দুরান ২০২১ সাল থেকে আটক। পরিবারের দাবি, তাকে এক মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। ‘আমি ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। শুধু বলব, অনেক আশা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি,’ বলেন পেদ্রো।
তবে এই মুক্তির ঘোষণা ঘিরে কিছু সংশয়ও রয়েছে। সরকারের আগের ঘোষণাগুলোতে বলা হয়েছিল, বড়দিন ও নববর্ষে ১৮৭ জনকে মুক্তি দেওয়া হবে। কিন্তু তার কেবল একটি অংশই নিশ্চিত হয়েছে।
বন্দিমুক্তি প্রসঙ্গে মানবাধিকার সংগঠন ‘জাস্টিস, এনকাউন্টার অ্যান্ড পার্ডন’-এর সমন্বয়ক মার্থা তিনেও বলেন, ‘আমরা আশাবাদী। কিন্তু প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ। তাই ধৈর্য ও সংহতির সঙ্গে অপেক্ষা করতে হবে।’

