Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

ইরানে ভয়াবহ ব্ল্যাকআউট, প্রাণ গেছে অন্তত ৪৫ জনের

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৯ এএম

ইরানে ভয়াবহ ব্ল্যাকআউট, প্রাণ গেছে অন্তত ৪৫ জনের

রাজধানী তেহরান থেকে শুরু হয়ে শতাধিক শহরে ছড়িয়ে পড়েছে ইরানের আন্দোলন। বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থানে গেছে সরকার। গোটা দেশজুড়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইন্টারনেট ও ফোন সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

অন্তত ৪৫ জন বিক্ষোভকারী প্রাণ হারিয়েছেন—এমনটাই জানিয়েছে নরওয়ে-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’। নিহতদের মধ্যে আটজন শিশু। আহত হয়েছেন শত শত মানুষ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুই হাজারের বেশি।

সাধারণ মানুষের রুটি-রুজির সংকট থেকে শুরু হয়ে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। খাদ্যদ্রব্য ও ওষুধের দাম আকাশছোঁয়া। দেশের মুদ্রার মূল্য হু-হু করে পড়ছে। অনেকেই দিন গুনছেন না খেয়ে।

তেহরানের বাজারে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন পুরো দেশের আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। কুর্দি অধ্যুষিত ইলাম থেকে মাশহাদ পর্যন্ত রাস্তায় নেমে এসেছে সাধারণ মানুষ। রাজধানীতে আগুন জ্বালিয়ে, রাস্তা অবরোধ করে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে।

‘এই বছর রক্তের বছর’, ‘খামেনির পতন ঘটবে’—এমন স্লোগান শোনা গেছে মাজারান ও গুলেস্তান প্রদেশেও। কোথাও কোথাও জাতীয় পতাকা ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। কিছু এলাকায় সরকারি ভবনে আগুন দেওয়ার দৃশ্যও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

সিএনএন বলছে, সাবেক রাজপুত্র রেজা সিরি পাহলভির আহ্বানে অনেকেই বৃহস্পতিবার রাজপথে নেমেছেন। তিনি বলেছেন, ‘একসঙ্গে দাঁড়াও, এক হয়ে আওয়াজ তুলো—উঠে দাঁড়াও ইরান।’

তবে এই প্রতিবাদে সরকারি জবাব ভয়াবহ। গুলি ছোড়া হয়েছে, চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে আহতদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো এর নিন্দা জানিয়েছে।

সরকার দাবি করছে, পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর প্রায় ১,০০০ সদস্য আহত হয়েছেন, নিহত হয়েছেন নিরাপত্তা বাহিনীর পাঁচ সদস্য।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, ‘মানুষ বিশ্বাস হারিয়েছে এই সরকারে।’

কোনো সমাধান না থাকায় রাষ্ট্রের ভরসা এখন শুধু বলপ্রয়োগ। কিন্তু মানুষ যেন আর ভয় পায় না। এক বিক্ষোভকারীর কণ্ঠে উঠে এসেছে সেই চিরপরিচিত আকুতি—‘আমাদের আর হারানোর কিছু নেই।’

রেজা সিরি পাহলভি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসনে আছেন। তিনি ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগে ইরানের যুবরাজ ছিলেন এবং তখন তাকে উত্তরাধিকারী হিসেবে বিবেচনা করা হতো। বিপ্লবের মাধ্যমে রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হওয়ার পর তিনি দেশ ছেড়ে যান। সেই থেকে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন এবং বিভিন্ন সময় ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করে আসছেন।
সূত্র: সিএনএন

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন