Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র রুশ পতাকাবাহী ও ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সম্পৃক্ত দুটি তেলের জাহাজ জব্দ করল

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৯ এএম

যুক্তরাষ্ট্র রুশ পতাকাবাহী ও ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সম্পৃক্ত দুটি তেলের জাহাজ জব্দ করল

যুক্তরাষ্ট্র আটলান্টিক মহাসাগরে দুটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে। এর মধ্যে একটি ছিল রুশ পতাকাবাহী। এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনার অংশ—যার লক্ষ্য আমেরিকায় জ্বালানি প্রবাহের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং ভেনেজুয়েলার সমাজতান্ত্রিক সরকারকে নিজের পক্ষে আনা।

মাত্র কয়েক দিন আগে মার্কিন সেনারা কারাকাসে অভিযান চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে। এর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সম্পর্কিত জাহাজগুলোর ওপর আরও কড়াকড়ি আরোপ করছে। এসব জাহাজের বেশির ভাগই নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল।

এই অভিযানের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে বুধবার সকালে। মার্কিন কোস্ট গার্ড ও সেনাবাহিনীর একটি যৌথ দল ‘মারিনেরা’ নামের রুশ পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করে। এটি কয়েক সপ্তাহ ধরেই মার্কিন নজরদারির মধ্যে ছিল। জাহাজটি আগে ‘বেল্লা-১’ নামে পরিচিত ছিল এবং গত মাসে মার্কিন বাহিনীর চেষ্টার মুখে পালিয়ে যায়। এরপর এটি রাশিয়ার পতাকা ধারণ করে।

এ ঘটনায় রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া এখনও নরম। তবে এটাও স্পষ্ট, রাশিয়া বিষয়টিকে সহজভাবে নিচ্ছে না। রুশ নৌবাহিনীর একটি সাবমেরিন জাহাজটির কাছাকাছি অবস্থান করছিল। এতে উত্তেজনার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘এটা ছিল ভুয়া রুশ তেলবাহী জাহাজ। নিষেধাজ্ঞা এড়াতেই জাহাজটি রুশ পতাকা ব্যবহার করেছিল।’

এর আগেই যুক্তরাষ্ট্র আরও একটি তেলবাহী জাহাজ—‘এম সোফিয়া’ আটক করে। এটি পানামার পতাকা নিয়ে চলছিল এবং ভেনেজুয়েলার উত্তর-পূর্ব উপকূলের কাছাকাছি ছিল। এই জাহাজটি পুরোপুরি তেল বোঝাই ছিল।

যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, এসব জাহাজ ভেনেজুয়েলা ও ইরানের নিষিদ্ধ তেল পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। তাদের ভাষায়, এই ‘ছায়া নৌবহর’ নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের জন্য তৈরি।

হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, শুধু সেই জ্বালানি পরিবহনই অনুমোদিত হবে, যেগুলো মার্কিন আইন ও জাতীয় নিরাপত্তা অনুযায়ী চলে। হোয়াইট হাউজের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার বলেন, ‘আমেরিকার আইন মেনেই তেল বেচাকেনা হতে হবে। ভেনেজুয়েলার জন্য বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করা হচ্ছে।’

জাহাজের ক্রুরা আটক এড়াতে মরিয়া চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি জানিয়েছেন, তারা কোস্ট গার্ডের নির্দেশ অমান্য করেছিল এবং এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হবে।

এদিকে চীন এই অভিযানকে ‘ক্ষমতার দাপট’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার ওপর বলপ্রয়োগ করে তাদের তেলসম্পদ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।’

ট্রাম্প পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন—ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদ মার্কিন কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে নিতে চান। প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর তিনি বলেছেন, ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি হবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায়।

ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেইয়ো জানান, যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানে ১০০ জন ভেনেজুয়েলান নিহত হয়েছেন।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলা এখন যেসব তেল বিক্রি করবে, তা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য—কৃষিপণ্য ও ওষুধ—কেনা হবে ভেনেজুয়েলার জন্য।

গ্রেপ্তারের পর নিউইয়র্কের একটি আদালতে মাদুরো নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তার বয়স এখন ৬৩ বছর।

এদিকে ভেনেজুয়েলায় ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ মাদুরোর ‘অপহরণের’ নিন্দা জানালেও, একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সম্পর্ক পুনঃস্থাপনেও আগ্রহ দেখিয়েছেন। একদিকে হুমকি, অন্যদিকে আলোচনার পথ খোলা রেখেছেন তিনি।

বুধবার, মার্কিন কংগ্রেসে এই বিষয়ে গোপন বৈঠক হয়। সেখানে প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তথ্য উপস্থাপন করেন। ডেমোক্র্যাট সেনেটর ক্রিস মারফি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেল ছিনিয়ে নিতে চাইছে এবং তা দিয়েই দেশ চালাবে।’

ফক্স নিউজে এক সাক্ষাৎকারে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স বলেন, ‘আমরাই এখন ভেনেজুয়েলার তেলের নিয়ন্ত্রক। আমেরিকার স্বার্থে কেউ তেল বিক্রি করলে চলবে, না হলে নয়।’

ট্রাম্প জানান, নিষেধাজ্ঞার কারণে আটকে থাকা ৫ কোটি ব্যারেল তেল যুক্তরাষ্ট্র পরিশোধন করে বিক্রি করবে। এই সিদ্ধান্তে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমে গেছে।

ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তির আলোচনা করছে। তবে এই চুক্তি হবে আইনি, স্বচ্ছ এবং দুই পক্ষের জন্যই লাভজনক।

তবে ফাইন্যানশিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের বৈদেশিক নীতির অস্থিরতায় মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো বিনিয়োগে দ্বিধান্বিত। তারা হোয়াইট হাউজে এক বৈঠকে কঠোর নিশ্চয়তা দাবি করবে।

চীন, রাশিয়া ও ভেনেজুয়েলার ঘনিষ্ঠ বামপন্থী মিত্ররা এই সামরিক অভিযান এবং মাদুরোর গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন