মাদুরো অপসারণের পর দেশে ফেরার ঘোষণা দিলেন মাচাদো
মারিয়া কোরিনা মাচাদো
ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা ও শান্তিতে নোবেলজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো জানিয়েছেন, তিনি যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরতে চান। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর অপসারণের পর এটাই ছিল মাচাদোর প্রথম প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাচাদো বলেন, ‘আমি খুব শিগগিরই ভেনেজুয়েলায় ফিরছি। এটাই আমার পরিকল্পনা।’ তবে তিনি কোথা থেকে কথা বলছিলেন, তা প্রকাশ করেননি।
সাক্ষাৎকারে মাচাদো সরাসরি অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, ‘রদ্রিগেজ হচ্ছেন নির্যাতন, নিপীড়ন, দুর্নীতি ও মাদক পাচারের অন্যতম রূপকার।’
দেলসি রদ্রিগেজ মাদুরো সরকারের সময় ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী বলে জানিয়েছেন। কিন্তু মাচাদোর দাবি, রদ্রিগেজকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে।
মাচাদোর ভাষায়, ‘ভেনেজুয়েলার জনগণ আজ বিরোধী পক্ষে। আমি নিশ্চিত, যদি সুষ্ঠু ও স্বাধীন নির্বাচন হয়, তাহলে আমরা ৯০ শতাংশেরও বেশি ভোটে জয়ী হবো।’
২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা হওয়ার দিনই তার সঙ্গে ট্রাম্পের শেষ কথা হয়েছিল বলে জানান মাচাদো। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। সেই সময় থেকেই তিনি নিজের দেশে ফেরেননি। পুরস্কার গ্রহণ করতে নরওয়েতে গিয়েছিলেন, সেখান থেকেই তিনি এই সাক্ষাৎকারে অংশ নেন।
ট্রাম্প সম্প্রতি বলেন, মাচাদোকে নেতৃত্বে বসানো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সঠিক সিদ্ধান্ত হবে না, কারণ তার ‘মধ্যে প্রয়োজনীয় জনসমর্থন ও সম্মান নেই’। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর একটি গোপনীয় বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মাদুরোর ঘনিষ্ঠজনদের মধ্য থেকেই অন্তর্বর্তী প্রশাসন পরিচালনায় স্থিতিশীল নেতৃত্ব পাওয়া যাবে—এমনটাই হোয়াইট হাউসকে জানানো হয়েছে।
তবে এসব সত্ত্বেও মারিয়া কোরিনা মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপকে মানবতা, স্বাধীনতা এবং মর্যাদার পথে ‘একটি বিশাল পদক্ষেপ’ বলে প্রশংসা করেন।
তিনি বলেছেন, ‘এই পদক্ষেপ শুধু ভেনেজুয়েলার জন্য নয়, বরং বিশ্ববাসীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।’

