ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর হঠাৎ গ্রেপ্তার এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ঢেউ তুলেছে। মাদুরো যখন নিউইয়র্কের আদালতে দাঁড়িয়ে নিজেকে অপহৃত দাবি করছেন, তখন ট্রাম্প পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন—এখানেই শেষ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের নজরে এখন আরও কয়েকটি দেশ।
ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, কলম্বিয়ায়ও সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে তিনি মেক্সিকোকেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, বলছেন—‘তাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে’। এমনকি গ্রিনল্যান্ডের ক্ষেত্রেও ট্রাম্পের মন্তব্য যেন নতুন আগ্রাসী মনোভাবের ইঙ্গিত বহন করে। বলেছেন, ‘আমাদের গ্রিনল্যান্ড দরকার’।
এই সব বক্তব্য একত্রে কিছুটা বিস্ময় জাগায়, আবার ভয়ও তৈরি করে। কারণ এগুলো শুধু কথার কথা নয়, বরং সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর ওপর ভিত্তি করে বলা হচ্ছে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলায় যা ঘটেছে, তা অনেকের চোখে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এবং এই নজিরই আগামী দিনগুলোতে অন্য দেশগুলোতেও যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন এখন যে কৌশল নিচ্ছে, তাতে করে যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা নিরাপত্তার স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে—তারা সবাই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। ট্রাম্প নিজেই বলেছেন, ‘আমরা ভেনেজুয়েলা চালাব’। এই বক্তব্য শুধু ভেনেজুয়েলার জন্য নয়, অন্য দেশগুলোর জন্যও এক ধরনের বার্তা।
এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যদি কোনো দেশের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ‘ওয়ারেন্ট’ থাকে, তবে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে অভিযান চালাতে পিছপা হবে না। তবে তারা বলছেন, এটা কোনো ‘রেজিম চেঞ্জ’ নয়, বরং ‘চরিত্রের পরিবর্তনের’ দাবি।
তবে এ নিয়েই এখন বিতর্ক তুঙ্গে। অনেক ডেমোক্র্যাটিক রাজনীতিক বলছেন, ট্রাম্পের এই ধরনের অভিযান সাংবিধানিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। কংগ্রেসকে না জানিয়ে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে—এটা সঠিক হয়নি বলে তারা দাবি করছেন।
তবে সব কিছুর বাইরে গিয়ে ট্রাম্প নিজের সিদ্ধান্তে অনড়। ভেনেজুয়েলার পরে কলম্বিয়া, মেক্সিকো, এমনকি ক্যারিবিয়ান দ্বীপগুলোতেও নজর রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তর থেকে পাওয়া ইঙ্গিত বলছে, যেসব দেশে মাদক, দুর্নীতি, বা চীনা ও রুশ প্রভাব আছে, সেসব দেশ ট্রাম্পের রাডারে আছে।
এই মুহূর্তে বিশ্ব অপেক্ষা করছে—ট্রাম্প পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেন। শুধু ভেনেজুয়েলাই নয়, এই দৃষ্টান্ত অন্য দেশগুলোকেও ভাবিয়ে তুলেছে। বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে যুক্তরাষ্ট্র এখন এক নতুন কৌশলের পথে হাঁটছে—আর সেই পথ যে কাঁটার নয়, তা বলাই বাহুল্য।

