ইরানে বিক্ষোভে সহিংসতা, নিহত অন্তত ৭, অব্যাহত অস্থিরতা
ইরানে চলমান অর্থনৈতিক সংকট ঘিরে তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েকটি শহরে সংঘর্ষে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সরকারি ও বেসরকারি সূত্র।
বৃহস্পতিবার ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় লোরেস্তান প্রদেশে একটি পুলিশ স্টেশনে হামলার সময় তিন বিক্ষোভকারী নিহত হন বলে জানিয়েছে আধা-সরকারি ফার্স সংবাদ সংস্থা। এতে আরও অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে কয়েকজন ‘উত্তেজিত ব্যক্তি’ পুলিশ সদর দপ্তরে ঢুকে পড়ে, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় এবং বেশ কয়েকটি পুলিশ গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়।
চারমহাল ও বখতিয়ারি প্রদেশের লরদেগান শহরেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। ফার্স ও মানবাধিকার সংগঠন হেংগাও জানিয়েছে, সেখানে কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছেন।
কুহদাশত শহরে এক নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানায়, নিহত ব্যক্তি বাসিজ সদস্য আমির হোসেন খোদায়ারি ফার্দ, যাকে তারা বিক্ষোভকারীদের হামলায় নিহত বলে দাবি করেছে। তবে হেংগাও বলছে, আমির হোসেন নিজেও বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন এবং তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ইসফাহান প্রদেশে বুধবার এক বিক্ষোভকারী নিহত হন বলে জানিয়েছে হেংগাও। তবে এ তথ্যগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশের মারভদাশত শহরেও বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান, হামেদান ও কেরমানশাহ প্রদেশে বিক্ষোভকারীদের আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হেংগাও।
চরম এই অস্থিরতার মধ্যে ইরান সরকার একদিকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংলাপের আশ্বাস দিয়েছে। সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানিয়েছেন, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবে সরকার।
বিশ্লেষকদের মতে, এ মুহূর্তে ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্ব এক সংকটময় সময়ে দাঁড়িয়ে। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় অর্থনীতি ধুঁকছে অনেক দিন ধরেই। এর মধ্যে ২০২৫ সালে মুদ্রার মান অর্ধেকে নেমে আসে, ডিসেম্বর শেষে সরকারি হিসাবে মূল্যস্ফীতি দাঁড়ায় ৪২.৫ শতাংশে।
জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক অবকাঠামো। সেই চাপের মধ্যেই এবার নতুন করে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশের অভ্যন্তর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কৌশল ও সহনশীলতার পরীক্ষা এখন চলমান।

