ভেনেজুয়েলার উপকূলে আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি তেলবাহী ট্যাংকারের পিছু নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার উপকূলের আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি তেলবাহী ট্যাংকারের পিছু নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়ানোর উদ্দেশ্যে।
রোববারের এই অভিযানটি এমন এক সময় চালানো হয়, যখন একদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই ‘সম্পূর্ণ অবরোধ’ কার্যকর করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্যাংকারটি ভুয়া পতাকা নিয়ে চলছে এবং এটি ‘বিচারিক জব্দাদেশের’ আওতায় রয়েছে। তারা আরও বলেন, জাহাজটি ভেনেজুয়েলার ‘ডার্ক ফ্লিট’-এর অংশ, যারা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল রপ্তানি করছে।
ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ‘ভ্যাঙ্গার্ড’ জানিয়েছে, এই জাহাজটির নাম ‘বেলা ১’। এটি একটি বিশাল আকারের অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার, যার সঙ্গে ইরানের সংযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
‘বেলা ১’ খালি অবস্থায় ভেনেজুয়েলার দিকে এগোচ্ছিল বলে জানিয়েছে ট্যাঙ্কার পর্যবেক্ষণ সংস্থা ট্যাঙ্কারট্র্যাকারস ডটকম।
ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ-এর নথির বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, ২০২১ সালে এই জাহাজটি চীনের উদ্দেশে ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহন করেছিল। এর আগে এটি ইরানি অপরিশোধিত তেলও বহন করেছে।
ভেনেজুয়েলা এই ঘটনাগুলোকে ‘আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা’ বলে অভিহিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, এই ট্যাংকারগুলো কালোবাজারে ব্যবহৃত হচ্ছিল এবং নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোতে তেল সরবরাহ করছিল।
হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, জব্দ করা প্রথম ট্যাংকার ‘স্কিপার’ এখন টেক্সাস উপকূলে নোঙর করে আছে এবং এর তেল যুক্তরাষ্ট্রে পরিশোধনের জন্য খালাস করা হচ্ছে।
এ নিয়ে ভেনেজুয়েলার অভিযোগ আরও জোরদার হয়েছে— তারা বলছে, যুক্তরাষ্ট্র আসলে তাদের তেল চুরি করছে।
এদিকে, এমন সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেও সমালোচনা হচ্ছে। সিনেটর র্যান্ড পল বলেছেন, এই ধরনের অভিযান ‘যুদ্ধ শুরুর প্ররোচনা’ হতে পারে।
তার ভাষায়, ‘বিশ্বে এমন অনেক সরকার আছে যাদের নীতি আমাদের পছন্দ নয়। তাই বলে আমেরিকার সেনাদের কাজ সারা দুনিয়ায় পুলিশিং করা নয়।’
যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আর্নেস্টো কাস্তানেদা মনে করেন, এই উত্তেজনা ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো হুমকি নয়। তারপরও যুদ্ধ ঘোষণার মতো পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।’
সবকিছু সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে কিছু সীমিত বাণিজ্য চলছে। মার্কিন তেল কোম্পানি শেভরনের সঙ্গে চুক্তির আওতায় কিছু জাহাজ এখনো বৈধভাবে তেল পরিবহন করছে।

