Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র ফের ভেনেজুয়েলার তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করল

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৪১ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ফের ভেনেজুয়েলার তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করল

যুক্তরাষ্ট্র আবারও ভেনেজুয়েলার উপকূলে একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই ‘ব্লকেড’ কার্যকর করার অংশ হিসেবে অভিযানটি চালানো হয়। ভেনেজুয়েলার পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে ‘চুরি ও জাহাজ ছিনতাই’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোএম নিশ্চিত করেছেন, উপকূলরক্ষী বাহিনী পেন্টাগনের সহায়তায় ট্যাংকারটি জব্দ করে। তিনি জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত তেল পাচার বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান চলবে।

তার ভাষায়, ‘যারা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাদের আমরা খুঁজে বের করব এবং থামাব।’

এই অভিযানের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে একটি বড় ট্যাংকারের ওপর দিয়ে একটি হেলিকপ্টারকে ঘুরতে দেখা যায়।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এটাই দ্বিতীয়বার, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার জলসীমায় তেলবাহী জাহাজে অভিযান চালাল। একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিও বেড়েছে।

ভেনেজুয়েলা এই ঘটনার কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেস বলেন, ‘আন্তর্জাতিক জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী একটি বেসরকারি তেলবাহী জাহাজ ছিনতাই করেছে এবং এর নাবিকদের গুম করেছে।’

তিনি বলেন, ‘এই অপরাধের বিচার হবেই।’ ভেনেজুয়েলা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদসহ আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে অভিযোগ জানাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ব্রিটিশ নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ভ্যাঙ্গার্ড জানিয়েছে, জব্দ করা জাহাজটির নাম ছিল ‘সেঞ্চুরিস’। এটি পানামার পতাকাবাহী এবং ক্যারিবিয়ান সাগরের বারবাডোসের কাছে আটক করা হয়।

জানা গেছে, এটি প্রায় ১৮ লাখ ব্যারেল মেরে গ্রেডের অপরিশোধিত তেল নিয়ে চীনের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল।

তবে মার্কিন আইনজীবী জেরেমি প্যানার জানিয়েছেন, এই জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ছিল না।

তিনি বলেন, ‘এটা মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় না থাকা একটি জাহাজ জব্দ করার ঘটনা। ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের মাত্রা আরও বাড়ছে।’

ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ-এর নথি অনুযায়ী, সেঞ্চুরিস নামটি ভুয়া হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এটি তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর অংশ, যারা নিজের অবস্থান গোপন করে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলো থেকে তেল পরিবহন করে।

এই অভিযানের পর দেশটির অপরিশোধিত তেলের রপ্তানি তীব্রভাবে কমে গেছে। প্রথম ট্যাংকার জব্দের পর থেকেই কয়েকটি জাহাজ রপ্তানি না করে ভেনেজুয়েলার জলসীমাতেই অপেক্ষা করছে।

ট্রাম্প প্রশাসন অভিযোগ করেছে, এসব তেলের টাকা মাদক চোরাচালান ও সন্ত্রাসবাদে ব্যবহার হয়। ফলে তারা সামরিকভাবে এ ধরনের তেল সরবরাহ বন্ধ করছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আঘাতে সাম্প্রতিক সময়ে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো একে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

প্রেসিডেন্ট মাদুরো অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার সরকারকে উৎখাত করতে চায় এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেলের মজুদ দখলে নিতে চায়।

বিশ্লেষক অ্যাডাম ক্লেমেন্টস বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে কিছু কিছু বক্তব্যে বোঝা যায়, তারা সরকার পরিবর্তন চাইছে।

তার মতে, ‘অনেকটা ঊনবিংশ শতকের পররাষ্ট্রনীতির মতো মনে হয়— যেখানে একটি দেশ অন্য দেশের অভ্যন্তরে হস্তক্ষেপ করে।’

সূত্র: আল জাজিরা

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন