Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

রুশ সম্পদ ছাড়াই ইউক্রেনকে ৯০ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে ইইউ

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:৫২ পিএম

রুশ সম্পদ ছাড়াই ইউক্রেনকে ৯০ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে ইইউ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা ইউক্রেনকে সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাতে আগামী দুই বছর দেশটি তার সামরিক ও অর্থনৈতিক চাহিদা পূরণ করতে পারে। এই ঘোষণা দেন ইইউ কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা।

বৃহস্পতিবার রাতভর আলোচনা শেষে শুক্রবার সকালে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান নেতারা। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, ইউক্রেনকে সহায়তা দিতে তারা পুঁজিবাজার থেকে ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর ফলে রাশিয়ার জব্দ করা সম্পদ ব্যবহার না করেও অর্থ সহায়তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই আর্থিক সহায়তার জন্য ইইউকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই ঋণ কিয়েভের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করবে এবং আগামী বছরগুলোর জন্য আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

জেলেনস্কি বলেন, ‘এই সহায়তা আমাদের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সত্যিই শক্তিশালী করে। রাশিয়ার জব্দ করা সম্পদ এখনো আটকে রাখা হয়েছে, যা গুরুত্বপূর্ণ।’

ইইউ প্রেসিডেন্ট কস্তা এক সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ‘আমরা একমত হয়েছি। ২০২৬-২৭ সালের জন্য ইউক্রেনকে ৯০ বিলিয়ন ইউরো সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, আমরা তা পালন করেছি।’

এই ঋণের অর্থ কোথা থেকে আসবে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করলেও, রইটার্স একটি খসড়া নথির বরাতে বলেছে—এই অর্থ ইইউ বাজেটের ভিত্তিতে পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহ করা হবে। ফলে বিতর্কিতভাবে রুশ সম্পদ ব্যবহারের বিষয়টি এই পর্যায়ে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

তবে ভবিষ্যতে রুশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জব্দ সম্পদ ব্যবহার করে আরেকটি ঋণের আলোচনা ইইউ এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টে চলবে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের ওপর কোনো আর্থিক চাপ পড়বে না বলে খসড়া নথিতে বলা হয়েছে। এই দেশগুলো ইউক্রেনের জন্য অর্থায়নে অংশ নিতে অনিচ্ছুক ছিল।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাবিষয়ক বিশেষ দূত কিরিল দমিত্রিয়েভ বলেন, ইইউ নেতাদের এই সিদ্ধান্ত ‘আইন ও যুক্তির বিজয়’। তিনি বলেন, ‘ব্যর্থ উরসুলা (ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লায়েন)-এর নেতৃত্বাধীন যুদ্ধপ্রবণরা এবার বড় ধাক্কা খেল।’

এই ঋণ ইউক্রেন তখনই শোধ করবে, যখন তারা রাশিয়ার কাছ থেকে যুদ্ধক্ষতিপূরণ পাবে। ততদিন পর্যন্ত রুশ সম্পদ জমা রাখা হবে, তবে ইইউ চায়, ভবিষ্যতে এই সম্পদ দিয়েই সেই ঋণ শোধ করা হোক।

সূত্র: আল জাজিরা

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন