Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

আল জাজিরার বিশ্লেষণ

বন্ডাই বিচে হামলা, অস্ট্রেলিয়ায় বীরের খেতাব পেয়েছেন আহমেদ আল-আহমেদ

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৫৬ এএম

বন্ডাই বিচে হামলা, অস্ট্রেলিয়ায় বীরের খেতাব পেয়েছেন আহমেদ আল-আহমেদ

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবেনিজ সিডনির সেন্ট জর্জ হাসপাতালে আহমেদ আল-আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন। [ছবি: অস্ট্রেলিয়ান প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, এপি-এর মাধ্যমে]

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই বিচে রোববার ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্দুক হামলার সময় নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে হামলাকারীকে প্রতিহত করেছিলেন আহমেদ আল-আহমেদ। বয়স ৪৩। তিনি সিডনিতে একটি ফলের দোকান চালান।

তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বীরের খেতাব পেয়েছেন। তাকে নিয়ে তামাম দুনিয়ার গণমাধ্যম সরব এখন।

ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি পেছন থেকে একজন অস্ত্রধারীকে ধরে ফেলেন, ঘুরিয়ে তাকে নিরস্ত্র করেন। এরপর হামলাকারীকে মাটিতে ফেলে দিয়ে তার কাছ থেকে বন্দুকটি নিয়ে সেটি হামলাকারীর দিকেই তাক করেন। আতঙ্কিত হামলাকারী পরে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবেনিজ এক সংবাদ সম্মেলনে আহমেদের সাহসিকতার প্রশংসা করেন। 

তিনি বলেন, ‘আহমেদ নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হামলাকারীর হাত থেকে বন্দুক কেড়ে নিয়েছেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন এবং এখন হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।’

জানা গেছে, আহমেদ আল-আহমেদ মূলত সিরিয়ার ইদলিবের কাছের আল-নায়রাব গ্রামের বাসিন্দা। ২০০৬ সালে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় যান এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। 

তিনি একজন মুসলিম অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক। তার এক আত্মীয় মুস্তাফা আসাদ একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

ঘটনার দিন আহমেদ সেখানে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। তখনই তিনি গুলির শব্দ শুনে ছুটে গিয়ে হামলাকারীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। আহমেদের ভাই হুথাইফা জানান, তিনি তার ভাইয়ের জন্য গর্বিত।

কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আহমেদের পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়। কেউ তাকে খ্রিষ্টান, কেউবা ইহুদি দাবি করে। এমনকি কিছু জায়গায় তার নামও বদলে দেওয়া হয়। 

তবে পরে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী আলবেনিজ নিজে তার পরিচয় নিশ্চিত করলে এসব গুজব ভেঙে পড়ে।

আহমেদের শরীরে দুটি গুলি লাগে বলে জানান তার আত্মীয় আসাদ। এরপর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে নিউ সাউথ ওয়েলসের কোগারায় সেন্ট জর্জ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি। 

প্রধানমন্ত্রী আলবেনিজ মঙ্গলবার হাসপাতালে গিয়ে আহমেদের সঙ্গে দেখা করেন এবং তার সাহসিকতার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান। আহমেদের পরিবারের সদস্যরাও এখন তার পাশে রয়েছেন। 

জানা গেছে, বুধবার তার অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা।

এ ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ায় জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী আলবেনিজ। তিনি বলেন, ‘এই দেশে ঘৃণা, বিদ্বেষ কিংবা সাম্প্রদায়িকতার কোনো জায়গা নেই। এই ঘটনা প্রমাণ করে—আমরা একসঙ্গে থাকলে সন্ত্রাসের জবাব দেওয়া সম্ভব।’

নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রধান ক্রিস মিন্সও আহমেদের সঙ্গে হাসপাতালের একটি ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘আহমেদ একজন জীবন্ত নায়ক। তার সাহসিকতা অনেক প্রাণ রক্ষা করেছে।’

আহমেদ আল-আহমেদের সহায়তায় একটি তহবিল সংগ্রহ ক্যাম্পেইন চালু হয়েছে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম গোফান্ডমিতে। এখন পর্যন্ত এতে ২ লাখ ১৮ হাজার ডলারের বেশি অর্থ তোলা হয়েছে। 

আমেরিকান ধনকুবের বিনিয়োগকারী বিল অ্যাকম্যান সবচেয়ে বড় অনুদানদাতা। তিনি ৬৬ হাজার ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছেন এবং নিজের সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি শেয়ারও করেছেন।

বিশ্বজুড়ে আহমেদের সাহসিকতা প্রশংসা কুড়িয়েছে। নিউ ইয়র্ক সিটির কম্পট্রোলার ব্র্যাড ল্যান্ডার লিখেছেন, ‘একজন মুসলিম, যিনি দুই সন্তানের বাবা, নিজের জীবন বাজি রেখে হানুকা উদযাপনরত প্রতিবেশীদের বাঁচিয়েছেন। তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’

নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহারান মামদানি লিখেছেন, ‘যেখানে বন্দুকধারীরা নিরীহ মানুষদের লক্ষ্য করছিল, সেখানে আহমেদ আল-আহমেদ গুলির মুখে ঝাঁপিয়ে পড়ে একজন হামলাকারীকে নিরস্ত্র করেন। এই সাহসিকতা ঘৃণার বিরুদ্ধে আমাদের কেমন দাঁড়ানো উচিত, তার স্পষ্ট উদাহরণ।’


Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন