অস্ট্রেলিয়ায় গুলি করে ১৫ জনকে হত্যায় দায়ী মুসলিম বাবা ও ছেলে
অস্ট্রেলিয়ার বন্ডাই বিচে ইহুদি উৎসবে গুলিবর্ষণে ১৫ জন নিহতের ঘটনায় অভিযুক্ত দুই বন্দুকধারী ছিলেন বাবা ও ছেলে—জানিয়েছে পুলিশ।
বাবা সজিদ আকরাম ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তার বয়স ছিল ৫০। ছেলে নবীদ আকরাম (২৪) বর্তমানে হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছেন। স্থানীয় গণমাধ্যম এই পরিচয় নিশ্চিত করেছে।
এই হামলাকে ইহুদিবিদ্বেষী হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছে কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ জানায়, ঘটনায় এখনও ৪০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহতদের মধ্যে দুজন পুলিশ কর্মকর্তা আছেন, যারা এখনো আশঙ্কাজনক হলেও স্থিতিশীল। নিহতদের বয়স ১০ থেকে ৮৭ বছরের মধ্যে।
বন্দুকধারীরা বন্ডাই বিচের পাশে একটি ছোট পার্কে আয়োজিত হনুক্কা উৎসবকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। সেখানে প্রায় এক হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সেদিন সন্ধ্যায় প্রচণ্ড গরমে সৈকতে ভিড় ছিল। হঠাৎ গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। লোকজন দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী আক্রমণকারীদের একজনকে ধরে ফেলেন এবং তার অস্ত্র কেড়ে নেন।
পুলিশ জানিয়েছে, সজিদ আকরাম ২০১৫ সাল থেকে লাইসেন্সধারী অস্ত্রধারী ছিলেন। তার নামে ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্রের অনুমোদন ছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বলেন, সজিদ ১৯৯৮ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় এসেছিলেন। তার ছেলে নবীদ অস্ট্রেলিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
পুলিশের ধারণা, ঘটনাটি দুই ব্যক্তির পরিকল্পিত হামলা। এর বাইরে আর কেউ জড়িত ছিল কি না, তা তারা যাচাই করে দেখছে।
সোমবার সকালে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবেনিজ বন্ডাই বিচে যান। সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
তিনি বলেন, ‘আমরা গতকাল যা দেখেছি, তা নিছক এক নিষ্ঠুর হামলা। এটা ছিল এক ইহুদিবিদ্বেষী সন্ত্রাসী আক্রমণ—অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে, এক প্রতীকী জায়গায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ ইহুদি সম্প্রদায় শোকাহত। আমরা সবাই তাদের পাশে আছি। ঘৃণার বিরুদ্ধে আমরা একসঙ্গে লড়ব।’
তিনি আহ্বান জানান, অস্ট্রেলিয়ার মানুষ যেন একটি করে মোমবাতি জ্বালিয়ে ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি জানায়। তিনি বলেন, ‘আলো অন্ধকারকে জয় করবে—এটাই তো হনুক্কার শিক্ষা।’
বিশ্বনেতারাও হামলার নিন্দা জানান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ শোকবার্তা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন।
গত কয়েক মাসে অস্ট্রেলিয়ায় একের পর এক ইহুদি সম্প্রদায়ের উপাসনালয় ও প্রতিষ্ঠান হামলার শিকার হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত আগস্টে ইরানকে দুটি হামলার জন্য দায়ী করে এবং তেহরান দূতাবাসের একজন কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করে।
রবিবারের এই হামলা ছিল গত প্রায় ৩০ বছরে অস্ট্রেলিয়ায় সবচেয়ে বড় বন্দুকহামলা। এর আগে ১৯৯৬ সালে তাসমানিয়ায় পোর্ট আর্থারে এক বন্দুকধারীর হামলায় ৩৫ জন নিহত হয়েছিলেন।
ড্যানিয়েল নামের এক স্থানীয় নারী বলেন, ‘আমরা ভয়ে থাকতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। ৭ অক্টোবরের পর থেকেই এই ভয় আমাদের সঙ্গে আছে।’
গাজা যুদ্ধের শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, যেদিন হামাস ইসরায়েলে হামলা চালায়। তাতে প্রায় ১,২০০ মানুষ নিহত হয়। পরে ইসরায়েল গাজায় যুদ্ধ শুরু করে, যেখানে এখন পর্যন্ত ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ায় ইহুদি জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার। এর এক-তৃতীয়াংশ সিডনির পূর্বাঞ্চলে বাস করে, যেখানে বন্ডাই অবস্থিত।
হামলার পর শুধু অস্ট্রেলিয়ায় নয়—বার্লিন, লন্ডন, নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন শহরে হনুক্কার অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়।

