Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

গাজায় টানা ভারী বৃষ্টিতে হাজার হাজার তাঁবু ডুবে গেছে, লক্ষাধিক ফিলিস্তিনি মানবিক বিপর্যয়ে

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:৩২ পিএম

গাজায় টানা ভারী বৃষ্টিতে হাজার হাজার তাঁবু ডুবে গেছে, লক্ষাধিক ফিলিস্তিনি মানবিক বিপর্যয়ে

গাজা উপত্যকায় টানা ভারী বৃষ্টিতে হাজার হাজার তাঁবু ডুবে গেছে। কিছু তাঁবুর ভেতরে পানি জমেছে ৪০ সেন্টিমিটারের বেশি।

গাজা সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল এক ভিডিও বার্তায় সতর্ক করে বলেন, ‘চলমান দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে একটি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ঘটতে যাচ্ছে।’

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, গাজায় এই বৃষ্টিপাত চলবে শুক্রবার পর্যন্ত।

বাসাল জানান, ২৪ লাখ মানুষের এই ছিটমহলে যারা আগে থেকেই চরম মানবিক সংকটে আছে, তাদের জন্য এখনো যে পরিমাণ সহায়তা আসছে তা খুবই অপ্রতুল। তিনি দ্রুত আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান।

তার ভাষায়, ‘শুধু আজ সকাল থেকেই এক হাজারের বেশি আবেদন পেয়েছি আমরা, যেসব পরিবার বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়ে গেছে।’

তিনি আরও জানান, ‘বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পানির স্তর এক মিটার ছাড়িয়ে গেছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। আজ ভোরের তুলনায় সন্ধ্যার দিকে আরও বেশি বৃষ্টির আশঙ্কা আছে।’

তিনি বলেন, গাজার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে প্রায় ২.৫ লাখ পরিবার এমন তাঁবুতে বাস করছে, যেগুলো পুরোনো ও ছিন্নভিন্ন। ঠান্ডা আর বৃষ্টির পানির সামনে তারা একেবারেই অসহায়।

মাহমুদ বাসাল জরুরি ভিত্তিতে তাঁবুর পরিবর্তে অস্থায়ী ঘর বা মোবাইল হোম সরবরাহের অনুরোধ জানান, যাতে অন্তত একটুখানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

এর আগে মঙ্গলবার, গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছিল, বুধবার থেকে শুরু হয়ে শুক্রবার পর্যন্ত একটি মেরু অঞ্চলের নিম্নচাপ গাজায় আঘাত হানবে। এতে কয়েক লাখ বাস্তুচ্যুত পরিবার মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।

গাজা পৌরসভার মুখপাত্র হোসনি মাহনা বলেন, ‘ইসরায়েলি হামলায় আটটি প্রধান পয়ঃনিষ্কাশন স্টেশনের মধ্যে সাতটি ধ্বংস হয়ে গেছে। এতে পুরো পাম্পিং সিস্টেম কার্যত অচল হয়ে গেছে।’

তিনি জানান, এখন পানি নিষ্কাশনের ক্ষমতা ৮০ শতাংশ কমে গেছে, আর পুরোনো যন্ত্রপাতির মাত্র ১৫ শতাংশ ব্যবহার করে স্থানীয় কর্মীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। জ্বালানির ঘাটতিও বড় সমস্যা।

তার ভাষায়, ‘রাস্তার চারপাশে ধ্বংসাবশেষ জমে থাকায় বৃষ্টির পানি ড্রেনে গিয়ে পড়তে পারছে না। ফলে পানির স্তর আরও বাড়ছে।’

গাজা সরকারের পূর্বের তথ্যমতে, ইসরায়েলি আগ্রাসনে ধ্বংস হয়ে যাওয়া অবকাঠামোর পরিপ্রেক্ষিতে অন্তত ৩ লাখ তাঁবু বা অস্থায়ী ঘর দরকার মানুষের আশ্রয়ের জন্য।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ইসরায়েলি আগ্রাসনের ফলে গাজার পুনর্গঠন করতে প্রায় ৭ হাজার কোটি ডলার খরচ হবে। এই যুদ্ধ দুই বছরে ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনির প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, আহত হয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি। কথিত যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে ১০ অক্টোবর হামলা বন্ধ হয়। কিন্তু ইসরায়েল কার্যত থামেনি। সময়-অসময় হামলা চালিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র:  আনাদোলু

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন