নিষেধাজ্ঞার মাঝেও কিভাবে রুশ তেল কিনে যাচ্ছে ভারত
রাশিয়ার তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, ভারত এখনই সস্তা রুশ তেল কেনা বন্ধ করতে প্রস্তুত নয়। বরং, এই তেল কেনা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে দেশটি।
সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে রাশিয়া-ভারত বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সেখানে পুতিন বলেন, ‘ভারতের জন্য নিরবিচারে জ্বালানি সরবরাহে রাশিয়া প্রস্তুত।’
চীনের পর ভারত এখন রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ। তবে এই সম্পর্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করছে। এমনকি ভারতীয় পণ্যের ওপর দ্বিগুণ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
২০২১ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের আগে ভারতের মোট তেল আমদানির মধ্যে রাশিয়ার অংশ ছিল মাত্র ২.৫ শতাংশ। যুদ্ধ শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ রাশিয়ার ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে—যার লক্ষ্য ছিল রাশিয়ার অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা।
২০২২ সালের ডিসেম্বরে জি-৭, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অস্ট্রেলিয়া রুশ তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৬০ ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেয়। পরে ইউরোপ ও যুক্তরাজ্য এই সীমা আরও কমিয়ে আনে। ফলে রুশ তেল অনেক কম দামে ভারতের মতো দেশের জন্য ক্রয়যোগ্য হয়ে ওঠে।
এক পর্যায়ে রাশিয়া প্রতি ব্যারেল তেল মাত্র ৩৫ ডলারে ভারতের কাছে বিক্রি করে, যেখানে তখন আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল প্রায় ৬২.৫০ ডলার।
২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ভারত রাশিয়া থেকে ৫.৮ বিলিয়ন ডলারের অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, যা একটি নতুন রেকর্ড।
পরবর্তী দুই মাসে এই আমদানির পরিমাণ কিছুটা কমে আসে—নভেম্বরে ৩.৯ বিলিয়ন এবং ডিসেম্বরে ৩.২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের তেল কেনা হয়। তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আবার বেড়ে যায় এবং আমদানি দাঁড়ায় ৩.৬ বিলিয়নে।
ভারতের ওপর রুশ তেল কেনা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ আগেও ছিল, এখনো আছে। এমনকি ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, মোদি নাকি তাকে আশ্বাস দিয়েছেন যে ভারত রুশ তেল কেনা বন্ধ করবে। তবে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন এই দাবিকে গুরুত্ব না দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজের প্রয়োজনে এখনো রাশিয়ার কাছ থেকে পারমাণবিক জ্বালানি কিনছে।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারত একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, এবং তাদের স্বার্থে যেখানে সুবিধা পায়, সেখান থেকেই জ্বালানি কেনার অধিকার রয়েছে তাদের।

