Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

অস্ট্রেলিয়ায় সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা: নতুন বাস্তবতায় পথ খুঁজছে কিশোরেরা

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৩১ পিএম

অস্ট্রেলিয়ায় সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা: নতুন বাস্তবতায় পথ খুঁজছে কিশোরেরা

অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার দিনে, প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবেনিজ একে একটি ‘গর্বের দিন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলেও, বুধবার সকাল পর্যন্ত কয়েকটি প্ল্যাটফর্ম ১৪ বছর বয়সীদের অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ দিচ্ছিল।

নিরাপদ ইন্টারনেট বিষয়ক কমিশনারের তালিকাভুক্ত ১০টি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মধ্যে কিক, থ্রেডস, ফেসবুক, স্ন্যাপচ্যাট, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও এক্স—১১ জানুয়ারি ২০১১ সালে জন্ম তারিখ দেওয়া অ্যাকাউন্ট গ্রহণ করছিল না। তবে টুইচ, রেডিট ও ইউটিউবে এখনো সেই তারিখ ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট খোলা যাচ্ছিল।

টুইচ জানিয়েছে, তারা নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পূর্ণ কার্যকর করবে।

সকল প্ল্যাটফর্ম জানিয়েছে, তারা নিষেধাজ্ঞা মেনে চলবে। এক্স ছিল সর্বশেষ প্ল্যাটফর্ম যারা বুধবার তাদের প্রস্তুতির কথা নিশ্চিত করেছে। ইউটিউব ধাপে ধাপে নতুন নিয়ম চালু করছে বলে জানা গেছে।

এদিন, কিরিবিলি হাউসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অ্যান্থনি আলবেনিজ বলেন, ‘আজকের দিনটা স্মরণীয়। আমরা যেন এটা মনে রাখি—১০ ডিসেম্বর। অস্ট্রেলিয়া যে বিশ্বের নেতৃত্বে আছে, এটি তার আরেকটি বড় প্রমাণ।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কিশোর-কিশোরী, অভিভাবক, প্রচারণাকারী মাইকেল ‘উইপা’ উইপফ্লি, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার পিটার মালিনাসকাস ও ই-সেফটি কমিশনার জুলি ইনম্যান গ্রান্ট।

প্রধানমন্ত্রী সাবেক বিরোধী দলীয় নেতা পিটার ডাটনের প্রশংসা করেন এই নিষেধাজ্ঞার জন্য তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে। একইসঙ্গে নিউজ কর্পের ‘লেট দেম বি কিডস’ প্রচারণাকেও প্রশংসিত করেন, যেটিকে তিনি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী সংবাদপত্র ব্যবহার বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘এটি শুধু প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ব্যাপার নয়, এটি সামাজিক দায়িত্ববোধেরও প্রশ্ন।’

অবশ্য আলবেনিজ স্বীকার করেন, প্রথম দিন থেকেই সব কিছু নিখুঁতভাবে কাজ করবে না। তার ভাষায়, ‘আমরা বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করে যাব।’

তবে কিশোরদের মধ্যে কেউ কেউ ইতোমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ার নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে অ্যাকাউন্ট খোলার পদ্ধতি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে গর্ব করে পোস্ট করেছে। কেউ কেউ বলছে, তারা বয়স যাচাইয়ের চেক পাস করতে পেরেছে অথবা জন্মতারিখ পরিবর্তন করে প্রবেশ করেছে।

জুলি ইনম্যান গ্রান্ট বলেন, এমন কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা সামনে আসবে, তবে সরকার দমে যাবে না।

তার কথায়, ‘এই সব সৃজনশীলতা, চাতুর্য বা নিয়ম ভাঙার প্রবণতা পত্রিকার শিরোনাম হবে ঠিকই, কিন্তু আমরা দীর্ঘমেয়াদি লড়াই করছি। অস্ট্রেলিয়া ইতিহাসের সঠিক পাশে আছে। আমাদের ছেলেমেয়েরা ঠিকই থাকবে।’

নাইন-এর টুডে প্রোগ্রামে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যান্থনি আলবেনিজ জানান, ই-সেফটি কমিশনার ১০টি প্ল্যাটফর্মকে ৯ ও ১১ ডিসেম্বরের ব্যবহারকারীর সংখ্যা জমা দিতে বলবেন, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায়—১৬ বছরের নিচে কেউ ব্যবহার করছে না এবং নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ পায়নি।

যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলস বলেন, ‘আজকের দিনটা একটা পরিবর্তনের শুরু। একসময় গাড়ির কোম্পানিগুলো বলেছিল, বাধ্যতামূলক সিটবেল্ট দিলে ব্যবসা চলবে না। আজ মানুষ গাড়ি কেনার সময় নিরাপত্তা দেখে।’

তার মতে, ঠিক সেভাবেই বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো প্রতিযোগিতা করতে পারে—কে বেশি নিরাপদ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে পারে।

মেলবোর্নের বাসিন্দা ওয়েইন হোল্ডসওর্থ তার ছেলে ম্যাকের আত্মহত্যার পর অনলাইন বুলিং-এর বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে এই আইন প্রণয়নের দাবি জানান। বলেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞা ও শিক্ষা একসাথে কাজ করবে—যাতে ১৬ বছর বয়সে ছেলেমেয়েরা সোশ্যাল মিডিয়ার জগতে প্রবেশের জন্য প্রস্তুত থাকে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সন্তানরা আমাদের ওপর গর্ব করবেই। আমরা কাজ শুরু করেছি মাত্র।’

এমা ম্যাসন তার ১৫ বছর বয়সী মেয়ে টিলির মৃত্যুর পর থেকে পরিবর্তনের জন্য প্রচার চালিয়ে আসছেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনে আবেগে কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, ‘এটা যেন দীর্ঘ এক ম্যারাথনের শেষ, আরেকটি ম্যারাথনের শুরু।’

তার কথায়, ‘আমি দারুণ আশাবাদী, তবে সামনে আরও পথ বাকি। আমাদের কাজ চলবে। সবকিছু নিখুঁত হবে না, তবে নিঃসন্দেহে আজ অস্ট্রেলিয়ায় গর্ব করার মতো একটি দিন।’

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন