Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

জাপানে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে আহত অন্তত ৩০, ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বহু মানুষ

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৩১ পিএম

জাপানে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে আহত অন্তত ৩০, ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বহু মানুষ

জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে। হঠাৎ এ ভূমিকম্পে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, বহু মানুষ দ্রুত ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বেরিয়ে পড়েন। প্রাথমিক হিসাবে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

জাপান মেটিওরোলজিক্যাল এজেন্সি বলছে, রাত ১১টা ১৫ মিনিটে এই ভূমিকম্পটি হয়। উপকূল থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে, ভূমির ৫০ কিলোমিটার গভীরে এর উৎপত্তি।

ভূমিকম্পের পরই জারি করা হয় সুনামি সতর্কতা। তবে কিছু সময়ের মধ্যেই তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। উপকূলে প্রায় ৭০ সেন্টিমিটার উচ্চতার ঢেউ আছড়ে পড়ে বলে স্থানীয় সূত্র জানায়।

ভূমিকম্পের পরপরই উত্তর-পূর্ব উপকূলজুড়ে কিছু ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে প্রায় ২৭০০ বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে আরও একটি বড় ধরনের কম্পন আসতে পারে। সাধারণ মানুষকে অন্তত এক সপ্তাহ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই দুর্যোগের সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘প্রতিদিনের ভূমিকম্পের প্রস্তুতি আবারও নিশ্চিত করুন। যেমন, ফার্নিচার টিকিয়ে রাখা, প্রয়োজন হলে দ্রুত ঘর ছাড়ার মানসিক প্রস্তুতি রাখা।’

রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, প্রায় ৯০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।

জাপানের পূর্বাঞ্চলীয় রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উপকূলীয় কিছু ট্রেন সার্ভিস সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রে একটি জরুরি সেলের কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা। 

তিনি বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতির নিরীক্ষা এবং উদ্ধার তৎপরতা চালাতে আমরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।’

এদিকে, তোহোকু ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের ফলে হিগাশিদোরি এবং ওনাগাওয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো ধরনের সমস্যা দেখা যায়নি। 

ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্রেও কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েনি বলে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থাকে জানিয়েছে জাপান সরকার।

২০১১ সালের ১১ মার্চ জাপানের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ৯.০ মাত্রার ভূমিকম্পে পূর্ব উপকূলে ভয়াবহ সুনামি দেখা দিয়েছিল। সেই দুর্যোগে মারা যান ১৮ হাজারেরও বেশি মানুষ, পুরো শহর মাটির সঙ্গে মিশে যায়।

এবারের ভূমিকম্পে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আওমোরি অঞ্চলে বেশ কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় সময় ৯ ডিসেম্বর ভোরে একাধিক স্থানে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটে।

জাপান ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। দেশটি ‘রিং অব ফায়ার’ নামক ভূমিকম্পবহুল অঞ্চলে অবস্থিত। প্রতি বছর দেশটিতে প্রায় দেড় হাজারের মতো ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

চলতি বছরের শুরুতে জাপানের ভূকম্প বিশেষজ্ঞ কমিটি সতর্ক করেছিল, আগামী ৩০ বছরের মধ্যে ‘নানকাই ট্রাফ’ এলাকায় বড় ধরনের ভূমিকম্পের সম্ভাবনা ৬০ থেকে ৯০ শতাংশ। 

সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে এ ধরনের কম্পনে লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণহানি এবং কয়েক ট্রিলিয়ন ইয়েনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে।

নানকাই ট্রাফ এলাকা জাপানের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলজুড়ে বিস্তৃত। অতীতেও বহু প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল এটি।


Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন