Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

থাইল্যান্ডের বিমান হামলা কাম্বোডিয়ায়, ট্রাম্পের শান্তিচুক্তি অনিশ্চয়তায়

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৩৩ এএম

থাইল্যান্ডের বিমান হামলা কাম্বোডিয়ায়, ট্রাম্পের শান্তিচুক্তি অনিশ্চয়তায়

থাই-কাম্বোডিয়া সীমান্তে সংঘর্ষের পর আহত এক ব্যক্তিকে চিকিৎসা দিচ্ছে থাই সেনাবাহিনী।

সাম্প্রতিক উত্তেজনার জেরে থাইল্যান্ড সোমবার কাম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে আকাশ থেকে হামলা চালিয়েছে। এই নতুন সংঘর্ষের মাধ্যমে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা প্রায় ভেঙে পড়লো, যে চুক্তির সূচনা মাত্র দুই মাস আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তত্ত্বাবধানে হয়েছিল।

সোমবার সকালে দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে সীমান্তে হামলার অভিযোগ তোলে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা উত্তেজনা এবং থাইল্যান্ডের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির অগ্রগতি স্থগিত করার পর এই নতুন সংঘর্ষ শুরু হয়।

থাইল্যান্ডের রয়্যাল এয়ার ফোর্স জানিয়েছে, তাদের হামলা শুধুমাত্র সামরিক স্থাপনায় হয়েছে—যেমন অস্ত্রাগার, কমান্ড সেন্টার এবং রসদ সরবরাহের পথ, যেগুলো সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।

থাই সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কাম্বোডিয়া ভারী অস্ত্র মজুদ করেছে, সেনা মোতায়েন বাড়িয়েছে এবং গোলাবারুদ প্রস্তুত রেখেছে, যা সীমান্ত এলাকায় হামলা বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছিল।’

থাই মেজর জেনারেল উইন্থাই সুবারি জানান, সোমবার সকালে কাম্বোডিয়ার হামলায় এক থাই সেনা নিহত হয় এবং আরও দুজন আহত হয়। এর জবাবে থাইল্যান্ড ‘চং আন মা পাস’ এলাকায় কাম্বোডিয়ার অবস্থানে হামলা চালায়।

থাইল্যান্ড আরও জানায়, স্থানীয় সময় ভোর ৩টার দিকে কাম্বোডিয়া সীমান্তে হামলা শুরু করে। তবে কাম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই অভিযোগ অস্বীকার করে। তারা এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘থাই বাহিনীর অভিযোগ সত্য নয়। আমরা পূর্ববর্তী সব চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংকট সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

গত ২৮ জুলাই ট্রাম্প দুই দেশের নেতার সঙ্গে ফোনালাপের মাধ্যমে একটি প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত করান। এরপর অক্টোবরে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে এক অনুষ্ঠানে দুই দেশ একটি বিস্তৃত যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করে, যেখানে ট্রাম্প ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম উপস্থিত ছিলেন।

ট্রাম্প এই ঘটনাকে কূটনৈতিক সাফল্য বলে উল্লেখ করেছিলেন এবং এটি তার বহু ঘোষিত ‘যুদ্ধ শেষ করার’ প্রচারণার আরেকটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।

কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের দুই সপ্তাহ পেরোতেই থাইল্যান্ড অভিযোগ করে, সীমান্তে একটি ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে তাদের কয়েকজন সৈনিক আহত হওয়ার পর তারা চুক্তির অগ্রগতি স্থগিত করে।

গত কয়েক দশকে এই দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষ হয়েছে। তবে এবারের সংঘর্ষকে সবচেয়ে গুরুতর বলেই মনে করা হচ্ছে। দুই দেশই একে অপরকে নতুন করে সহিংসতা শুরুর জন্য দোষারোপ করছে।


Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন