ভারতের নাইট ক্লাবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু
গোয়ার আরপোরায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ছিলেন পর্যটক ও নাইটক্লাবের কর্মীরা। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর গোয়ার জনপ্রিয় ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’ নামের একটি নাইটক্লাবে, মধ্যরাতে।
রাত ১টার দিকে যখন ক্লাবে গান বাজছিল, তখন হঠাৎ আগুন লাগে। প্রায় একশ জনের মতো মানুষ তখন ক্লাবের ভেতরে ছিলেন। আগুন ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্ক তৈরি হয়। অনেকে কোনোরকমে বের হয়ে আসতে পারলেও, কেউ কেউ নিচতলায় রান্নাঘরের দিকে ছুটে যান। সেখানেই তারা ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে মারা যান।
প্রত্যক্ষদর্শী ফাতিমা শেখ, যিনি হায়দরাবাদ থেকে ঘুরতে গিয়েছিলেন, জানান, ‘হঠাৎ করে চারপাশে হৈচৈ শুরু হয়। আমরা দৌড়ে ক্লাব থেকে বের হই। তখন দেখি পুরো ক্লাবটাই আগুনে পুড়ে যাচ্ছে।’
ধোঁয়ার কারণে দমবন্ধ হয়ে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের একাধিক গাড়ি গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্লাবের গঠন এবং এর সংকীর্ণ প্রবেশপথের কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ক্লাবের ভেতর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। ফলে উদ্ধারকাজ দেরিতে শুরু হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ক্লাবের রান্নাঘরের পাশে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের সন্দেহ করা হলেও তদন্তে সিলিন্ডারগুলো অক্ষত পাওয়া গেছে।
গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত বলেছেন, ‘এই দিনটা গোয়ার জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।’ তিনি একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ক্লাবের মালিকপক্ষ এবং ব্যবস্থাপনার লোকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশ জানাচ্ছে, ক্লাব কর্তৃপক্ষ আগুন-নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলেনি। ক্লাবে জরুরি নির্গমন পথ ছিল না। ক্লাবটি ‘আইল্যান্ড ক্লাব’ নামে পরিচিত এবং আরপোরা নদীর পাশের সরু গলির ভেতরে অবস্থিত, যেখানে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশ করতে পারেনি।
আরপোরা-নাগোয়া পঞ্চায়েতের সরপঞ্চ রোশন রেডকার জানান, ক্লাবের অংশীদারদের মধ্যে পূর্ব থেকেই বিরোধ ছিল এবং তারা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন। ক্লাব নির্মাণের অনুমোদন ছিল না, এ নিয়ে আগেও সতর্ক করা হয়েছিল। ভাঙার নির্দেশ দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।
তিনি বলেছেন, ‘উত্তর গোয়ার এই মর্মান্তিক ঘটনায় আমি গভীরভাবে ব্যথিত। নিহতদের পরিবারের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘গোয়ার আরপোরায় আগুনে প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। যাদের প্রিয়জন হারিয়েছেন, তাদের জন্য আমার মন কাঁদছে। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করি। গোয়ার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। রাজ্য সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের সবরকম সহায়তা দিচ্ছে।’
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং ওড়িশার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকও এই ঘটনায় গভীর শোক জানিয়েছেন। তারা নিহতদের পরিবারের প্রতি সহানুভূতি জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।

