প্রচণ্ড বৃষ্টিতে ডুবে যাচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, প্রাণহানি ছাড়িয়েছে ৯০০
প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:১৭ পিএম
প্রবল বৃষ্টিপাত ও ঝড়ের কারণে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশজুড়ে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস দেখা দিয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৯০০ জনের বেশি মানুষ, নিখোঁজ রয়েছেন বহু।
ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড়-সৃষ্ট প্রবল বৃষ্টি। বিরল এই ঘূর্ণিঝড়টি গঠিত হয়েছিল মালাক্কা প্রণালীতে—যা সুমাত্রা দ্বীপকে বাকি দুটি দেশ থেকে আলাদা করেছে।
অন্যদিকে শ্রীলঙ্কায় আঘাত হানে একটি আলাদা ঝড়। সেই ঝড়ের কারণে ভারী বৃষ্টি এখন ধেয়ে যাচ্ছে ভারতের দক্ষিণ উপকূলের দিকে।
সরকারি হিসাবে, ইন্দোনেশিয়ায় মারা গেছেন অন্তত ৪৩৫ জন, শ্রীলঙ্কায় ৩৩৪ জন, থাইল্যান্ডে ১৬২ জন এবং মালয়েশিয়ায় প্রাণ গেছে অন্তত দুজনের।
ইন্দোনেশিয়া:
সুমাত্রা দ্বীপে ঘূর্ণিঝড় সেনিয়ার ভয়াবহ ভূমিধস ও বন্যার সৃষ্টি করেছে। সেখানে নিখোঁজ রয়েছেন ৪০০-র বেশি মানুষ। অনেক জায়গায় পৌঁছাতেও হিমশিম খাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
স্থানীয়রা বলছেন, ঘুম থেকে উঠে দেখেন চারদিক পানিতে ডুবে গেছে। অনেকের ঘরবাড়ি ধসে গেছে, সব কিছুই কাদায় মিশে গেছে।
বৃষ্টি কমলেও বহু এলাকা এখনও পানির নিচে। খাদ্য ও পানি সরবরাহ পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় কিছু এলাকায় ক্ষুধার্ত মানুষ খাবার লুটে নিয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
থাইল্যান্ড:
থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে ১৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৩৫ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেক অঞ্চলে ৮ ফুটের বেশি পানি জমে গেছে।
হাত ইয়াই শহরের একজন নারী জানান, বন্যার সময় পরিবার নিয়ে তিনি ৪৮ ঘণ্টা কাটিয়েছেন একটি টেবিল ও ওয়াশিং মেশিনের ওপর বসে। তাদের খাবার ছিল না, ছোট দুই সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
সরকার জানিয়েছে, পরিস্থিতির এখন কিছুটা উন্নত হয়েছে। কিছু এলাকায় পানি নেমে গেছে। তবে বহু ঘরবাড়ি এখনও ডুবে আছে।
শ্রীলঙ্কা:
ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়া’র কারণে ভূমিধস ও বন্যায় এখন পর্যন্ত ৩৩৪ জন মারা গেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১১ লাখের বেশি মানুষ।
এক নারী বলেন, টেলিভিশনে সতর্কবার্তা শুনলেও নদী এত দ্রুত উপচে পড়বে ভাবেননি। কিছুই না নিয়েই বাড়ি ছেড়ে পালাতে হয় তাদের।
অনেকেই স্কুলে তৈরি করা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন। একজন স্বেচ্ছাসেবক বলেন, অনেকে কাজ হারিয়েছেন, সঞ্চয় ফুরিয়ে আসছে। তারা জানেন না, কীভাবে জীবন আবার শুরু করবেন।
মালয়েশিয়া:
ঘূর্ণিঝড় সেনিয়ার আঘাতে দুজন নিহত হয়েছেন। ৩৪ হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এক বৃদ্ধ দম্পতি বলেন, তারা বাড়ি থেকে বের হয়ে মাঠে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরে তাদের সন্তান এসে উদ্ধার করে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব:
এই অঞ্চলের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পড়ছে। বিরল ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি, তাপদাহ—সব মিলিয়ে এই দুর্যোগের আশঙ্কা আরও বাড়ছে।
এ মাসেই ফিলিপাইনে পরপর দুটি শক্তিশালী টাইফুন আঘাত হেনেছে। ভিয়েতনামেও ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে বহু প্রাণ গেছে।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন, জলবায়ু পরিবর্তন অব্যাহত থাকলে এমন বিপর্যয় আরও বাড়বে।
