দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণ গেল অন্তত ৫০০ জনের
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তিন দেশে টানা বৃষ্টি ও ভয়াবহ ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া। এখনো চলছে উদ্ধার তৎপরতা আর ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ।
ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা গেছে। সেখানে অন্তত ৩৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো নিখোঁজ ২৭৯ জন। উত্তর সুমাত্রায় ১৬৬ জন এবং পশ্চিম সুমাত্রায় ৯০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা। এছাড়া আচেহ অঞ্চলে উদ্ধারকর্মীরা আরও ৪৭টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন।
প্রায় ৮০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে নিরাপদ আশ্রয়ে। শুধু সুমাত্রা দ্বীপজুড়েই অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন ২৮ হাজারের বেশি মানুষ। নিখোঁজদের খোঁজে মাঠে রয়েছে সাড়ে তিন হাজার পুলিশ সদস্য।
থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলেও পরিস্থিতি ভয়াবহ। দেশটির ৮টি প্রদেশে বন্যায় প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ১৬২ জন। এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এই বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সংখলা প্রদেশ। এখানে পানির উচ্চতা তিন মিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে। সেখানে এক হাসপাতালে মরদেহ রাখার জায়গা না থাকায় ফ্রিজিং ট্রাকে রাখা হচ্ছে মৃতদেহ।
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, সরকার এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছে। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বন্যায় যেসব পরিবার তাদের প্রিয়জন হারিয়েছে, তাদের জন্য ঘোষণা করা হয়েছে প্রায় দুই মিলিয়ন বাথ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ।
এদিকে হাট ইয়াই শহরের ব্যবসায়ী রাচানে রেমস্রিংগাম বলেন, তার দোকান পানিতে ডুবে গেছে, ক্ষতি হয়েছে লাখ লাখ টাকার। দোকানে চুরি ও ভাঙচুরও হয়েছে বলে জানান তিনি।
বন্যা মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে দেশজুড়ে ক্ষোভ বাড়ছে। স্থানীয় দুই কর্মকর্তাকে ইতোমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিরোধীদল থেকে বলা হয়েছে, সরকার পরিস্থিতির সঠিক মূল্যায়ন করতে পারেনি এবং ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
হাট ইয়াই শহরের বাসিন্দা আমফোর্ন কেয়োফেংক্রো জানান, তার পরিবারসহ সাতজন টানা ৪৮ ঘণ্টা ধরে পানির মধ্যে ঘরের দ্বিতীয় তলার একটি টেবিল, জানালার ফ্রেম আর ওয়াশিং মেশিনের ওপর আশ্রয় নিয়েছিলেন।
মালয়েশিয়ার পার্লিস প্রদেশেও টানা বৃষ্টিতে বন্যা দেখা দিয়েছে। সেখানে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে।
এ অঞ্চলে প্রতিবছর জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষা মৌসুম চলে। এবার সেই মৌসুমের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একটি ক্রান্তীয় ঝড়। যার ফলে বৃষ্টিপাত হয়েছে অতিমাত্রায়। ঝড়ের শক্তি, বর্ষণের সময়কাল ও ঘন ঘন বৃষ্টির প্রবণতা বেড়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই—বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এই দুর্যোগ সেই পরিবর্তনেরই ভয়াবহ চিত্র।

