Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া

শ্রীলঙ্কায় অন্তত ১৫৯ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ২০৩

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ০২:২৩ পিএম

শ্রীলঙ্কায় অন্তত ১৫৯ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ২০৩

শ্রীলঙ্কায় টানা কয়েক দিনের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে এখন পর্যন্ত ১৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, নিখোঁজ রয়েছেন আরও ২০৩ জন। আজ সকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৮ লাখ ৩৩ হাজার ছাড়িয়েছে।

দেশজুড়ে খোলা হয়েছে ৯১৯টি নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র। সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় এক লাখ ২২ হাজার মানুষ, যারা ৩৪ হাজারের বেশি পরিবারের সদস্য।

তবে শুধুমাত্র ভারি বৃষ্টিপাতে নয়, বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভয়াবহ পরিস্থিতির পেছনে দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক অব্যবস্থাপনা, পরিবেশের সঙ্গে করা অপরাধ আর প্রশাসনিক ব্যর্থতা দায়ী।

ইন্দোনেশিয়ায় অবস্থিত ক্লাইমেট রিসার্চ সেন্টারের বিজ্ঞানী ড. থাসুন আমারাসিংহে এই দুর্যোগকে ‘মানবসৃষ্ট’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে, ‘‘এটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, এটা শাসনব্যবস্থার দুর্যোগ। শ্রীলঙ্কা নিজেই ধ্বংস করেছে সেই প্রকৃতি, যা একসময় তাকে রক্ষা করত।’’

তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে জলাভূমিগুলোকে ভরাট করে, গাছ কেটে, অনুমোদন দিয়ে এবং উপেক্ষার মাধ্যমে প্রাকৃতিক বন্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে। পরিবেশবিদ, জলবিদ এবং রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর সতর্কতা সত্ত্বেও, সেইসব উন্নয়নকাজ থামানো হয়নি।

‘‘জলাভূমি বন্যার পানি শোষণ করে। আপনি যখন সেগুলো ধ্বংস করেন, তখন পানির যাওয়ার আর কোনো পথ থাকে না। এটা শুধু জলবায়ু পরিবর্তনের ফল নয়, এটা মানবিক সিদ্ধান্তের ফলাফল,’’ বলেন ড. আমারাসিংহে।

তার ভাষায়, প্রতিটি অবৈধ ভরাট, নিয়ন্ত্রণহীন ভবন নির্মাণ আর রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় হওয়া দখল — এসবই পরিবেশের ওপর একেকটি সহিংসতা। এখন সেই ক্ষয়ক্ষতির ফল পুরো জাতি ভোগ করছে।

তিনি বলেন, ‘‘কমিটি মানুষের জীবন রক্ষা করে না, আইন প্রয়োগই পারে।’’

গত কয়েক দশকে একাধিকবার এমন দুর্যোগ হয়েছে—২০১০, ২০১৬, ২০২১ এবং এবার ২০২৫ সালে। প্রতিবারই সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, নতুন কমিটি গঠন করেছে, নির্দেশনা জারি করেছে। কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি কিছুই। বরং নিয়মভঙ্গ চলেছে নির্দ্বিধায়, অনুমোদন দেওয়া হয়েছে আগের মতোই।

ড. আমারাসিংহে মনে করেন, সমস্যা দক্ষতার নয়, সাহসের। দেশের আইন আছে, ক্ষমতা আছে, দক্ষতাও আছে। কিন্তু রাজনীতিকদের অনুমতি ছাড়া বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না।

‘‘এই দুর্যোগ একটা সতর্কবার্তা। সরকার এখন যদি কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে এটা ইতিহাসে এক ভয়াবহ ব্যর্থতা হিসেবে থেকে যাবে।’’

তিনি বলেন, ‘‘শ্রীলঙ্কা পুনর্গঠনের মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা করতে পারবে না। কেবল কঠোর আইন প্রয়োগই পারে পরবর্তী বিপর্যয় ঠেকাতে।’’

তার প্রশ্ন, ‘এই বন্যা কীভাবে হলো’ নয়, বরং ‘কে এটা হতে দিয়েছে?’—এই প্রশ্নটাই এখন জরুরি।

পরিবেশ আইন লঙ্ঘনগুলো প্রকাশ্যেই ঘটেছে—সেগুলো অনুমোদনও পেয়েছে। ড. আমারাসিংহে তাই স্পষ্ট করে বলেন, ‘‘যদি আবারও বন্যায় মানুষ প্রাণ হারায়, তবে তার দায় সেই সব কর্তৃপক্ষের—যারা আইন থাকার পরও তা প্রয়োগ করেনি।’’

তার মতে, দেশের সামনে এখন দুটি পথ—একটি হচ্ছে সাহসিকতার সঙ্গে নিয়ম-কানুন বাস্তবায়ন করে পরিবেশ রক্ষা, আর অন্যটি হচ্ছে চেনা পথে ফিরে গিয়ে আরও ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়া।

‘‘প্রকৃতি এবার শুধু সতর্ক করেছে। পরেরবার যদি সরকার উদাসীন থাকে, সেটি দুর্ঘটনা হবে না—একটি নির্ধারিত পরিণতি হবে,’’—বলেছেন ড. আমারাসিংহে।

সূত্র: সানডে আইল্যান্ড

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন